জাতীয় স্বার্থ ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ২৩:৩১ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফরে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার পর রোববার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ১১টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি এবং ১১টি প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি ছিল। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন।
তিনি বলেন, এসব কর্মসূচিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় এসেছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, সামগ্রিকভাবে চার কর্মদিবসের সফরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার বিষয়টি সমুন্নত রেখেছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণকে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, ভাষণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তরুণ ও নারীদের জন্য সরকারের নীতি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়ও উঠে এসেছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে সরকারের রূপকল্পও উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি জানান, সাধারণ বিতর্কে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু মোকাবিলা, ন্যায়সঙ্গত উত্তরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও ধাত্রীসেবা বিষয়ক বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ও অংশ নেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সফরকালে বিশ্বশান্তি ও ফিলিস্তিন ইস্যুতেও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সভাকক্ষ ত্যাগের ঘটনাটিও ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে সমর্থনের আশ্বাস পেয়েছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকারও প্রশংসা করেছে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা রয়েছে এবং এতে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনেরও প্রতিফলন ঘটেছে।
তিনি বলেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের জমায়েতের যে রেওয়াজ ছিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তা সমর্থন বা উৎসাহিত করেননি।
শিবলী বলেন, এটি প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী দলের আকারের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন মাত্র ৩৫ জন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে বড় বহর নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দেশে ফেরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসসহ মোট পাঁচ দিনের সফর শেষে রোববার সকালে দেশে ফিরেছেন।