• ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভাইবোনদের বঞ্চিত করতে লতিফুর কন্যা সিমিনের ভয়াবহ জালিয়াতি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১৬:২৬ অপরাহ্ণ
ভাইবোনদের বঞ্চিত করতে লতিফুর কন্যা সিমিনের ভয়াবহ জালিয়াতি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজের ভাইবোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে গোপনে ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে সিমিন রহমান ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার আত্মসাৎ করেছেন—এমন অভিযোগে পিবিআই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে। গত ১১ জানুয়ারি পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর সৈয়দ সাজেদুর রহমান এ চার্জশিট দাখিল করেন। গতকাল আদালতে চার্জশিট উপস্থাপন করা হলে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ শুনানির জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মনির হুসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চার্জশিটে সিমিন রহমান ছাড়াও আরও পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক, আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক, মো. সামসুজ্জামান পাটোয়ারি এবং লতিফুর রহমানের স্ত্রী মিসেস শাহনাজ রহমান। তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, ২০২০ সালের ১৩ জুন ঢাকায় একটি বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে নথিতে দেখানো হয়, যার এজেন্ডায় ছিল পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুমোদন, ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ ও ইলেকট্রনিক সিগনেচার অনুমোদন এবং লতিফুর রহমানের শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়। ওই মিটিংয়ের হাজিরা শিটে লতিফুর রহমানকে ছুটিতে দেখানো হয় এবং আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায়, মিটিংয়ের সময় তিনি কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন। ওই বোর্ড মিটিংয়ের তৃতীয় এজেন্ডার মাধ্যমে লতিফুর রহমানের ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে বড় মেয়ে সিমিন রহমানকে ১৪ হাজার ১৬০টি এবং ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হককে ৪ হাজার ৭২০টি করে শেয়ার হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দেখানো হয়। তবে বাদীপক্ষ দাবি করেছে, ২০২০ সালের ১৩ জুন আদৌ কোনো বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়নি। তদন্তের সময় কোম্পানির বর্তমান পরিচালকদের কাছে ওই দিনের বোর্ড মিটিং ও রেজল্যুশনের কাগজপত্র চাওয়া হলেও আসামিপক্ষ তা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়। পাশাপাশি বোর্ড মিটিংয়ের আগে ইমেইল বা ডাকযোগে কোনো নোটিস পাঠানোর প্রমাণও পাওয়া যায়নি। চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়, শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আরজেএসসিতেও অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের ১৩ জুন ট্রান্সকম লিমিটেডের শেয়ার হস্তান্তরের কাগজপত্র আরজেএসসিতে জমা দেওয়া হলেও নির্ধারিত ফি সময়মতো পরিশোধ না করে বিলম্বে ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর পরিশোধ করা হয়। শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সময় দাতা ও গ্রহীতা—কোনো পক্ষই আরজেএসসিতে উপস্থিত ছিলেন না; কেবল আসামিপক্ষের পক্ষে অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অথচ কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী দাতা ও গ্রহীতাকে সশরীরে উপস্থিত থেকে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। তদন্তে আরও উঠে আসে, ভাইবোনদের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে অধিকাংশ শেয়ার নিজের নামে নেওয়ার লক্ষ্যে সিমিন রহমান পারিবারিক ডিড অব সেটেলমেন্ট ও কোম্পানির নথিপত্র তৈরি করেন। এ জন্য তিনি দুটি ভুয়া স্ট্যাম্প এফিডেভিট ব্যবহার করেন, যেখানে ছোট বোন শাযরেহ হকসহ বাবা ও ভাইয়ের স্ক্যান করা স্বাক্ষর যুক্ত করা হয় এবং সেগুলো আরজেএসসিতে দাখিল করা হয়। আদালতে দাখিল করা ডাক বিভাগ ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, শাযরেহ হকের নামে ব্যবহৃত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ২০২৩ সালে সৃজনকৃত, যা ২০২০ সালের ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছে। আরও বলা হয়, যেই ভেন্ডরের মাধ্যমে স্ট্যাম্প সরবরাহ দেখানো হয়েছে, তার লাইসেন্স ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাতিল হয় এবং তিনি ২০২৩ সালে অসদুপায়ে সংগৃহীত স্ট্যাম্প ২০২০ সালের তারিখে স্বাক্ষর দিয়ে সরবরাহ করেন। এর আগে ভাইবোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লতিফুর রহমানের কন্যা শাযরেহ হক গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন, যেখানে সিমিন রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...