• ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন কোম্পানি থেকে ১.৩০ কোটি লিটার পাম অলিন কিনছে সরকার, ব্যয় ১৮১ কোটি টাকা

টিসিবির মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকিমূল্যে বিক্রি—বাণিজ্য চুক্তির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রমুখী আমদানি বাড়ছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১৯:৪০ অপরাহ্ণ
মার্কিন কোম্পানি থেকে ১.৩০ কোটি লিটার পাম অলিন কিনছে সরকার, ব্যয় ১৮১ কোটি টাকা
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দেশের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকিমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম অলিন আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮১ কোটি ২৯ লাখ ৬ হাজার ৯৩২ টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক পুনঃদরপত্র পদ্ধতিতে আমেরিকার পাওয়ার হাউস জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি থেকে এ তেল সংগ্রহ করা হবে। আমদানিকৃত এই তেল ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর কার্ডধারী নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করা হবে।

এছাড়া একই বৈঠকে স্থানীয়ভাবে মসুর ডাল সংগ্রহের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডাল সংগ্রহের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এক লটে ২ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনা হবে। ঢাকার গুলশানভিত্তিক ইজ সার্ভিসেস লিমিটেড ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় এই ডাল সরবরাহ করবে।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

পাম অলিন মূলত পাম ফলের শাঁস থেকে উৎপাদিত পাম অয়েলের তরল অংশ, যা ভোজ্যতেল হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এতদিন দেশের ব্যবসায়ীরা প্রধানত মালয়েশিয়া থেকে এ তেল আমদানি করলেও সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে সরকার।

জানা গেছে, প্রায় নয় মাসের আলোচনা শেষে ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ নামে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে ৯ ফেব্রুয়ারি এ চুক্তি সই হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা দিলেও বিনিময়ে মার্কিন পণ্য আমদানি বৃদ্ধি এবং বাজারে তাদের জন্য অধিকতর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ।

এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য—যেমন গম, সয়াবিন ও তুলা—এবং ১৫ বছরে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

চুক্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাংস, পোল্ট্রি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, ক্যাটফিশ জাতীয় মাছ ও ডিম আমদানিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হবে না। এ নিয়ে দেশের পোল্ট্রি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে, বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিতে বাণিজ্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। একটি শর্তে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অন্য দেশ থেকে কী আমদানি করবে সে ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনায় রাখতে হবে।

তবে ইতিবাচক দিক হিসেবে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ধরনের বাংলাদেশি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে ৭ হাজার ১৩২টি ট্যারিফ লাইনে মার্কিন পণ্য বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, যার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।


সংবাদ বিশ্লেষণ:
সরকারের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে দেশের আমদানি নির্ভরতা ও স্থানীয় শিল্পের উপর এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে।