• ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকার বেশি ফেরত আনল সরকার: ধর্মমন্ত্রী

২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ বাংলাদেশির চিকিৎসা বাবদ আটকে থাকা ৩০ লাখ ৯১ হাজার সৌদি রিয়াল ফেরত | ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া কমেছে ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ণ
হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকার বেশি ফেরত আনল সরকার: ধর্মমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

সৌদি আরবের কাছে সংরক্ষিত বাংলাদেশি হজযাত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের বিপরীতে এ অর্থ সংরক্ষিত ছিল।

রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেইন কায়কোবাদ।

ধর্মমন্ত্রী জানান, ফেরত পাওয়া অর্থের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ৩১০ জনের বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জনের বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল রয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও কাগজপত্র উপস্থাপন এবং ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে গত ২৯ অক্টোবর নুসুক (Nusuk) সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ ফেরত পাওয়ার কোনো নজির ছিল না। বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার দায়িত্বশীল ভূমিকা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় এবং সৌদি সরকারের সহযোগিতায় এ অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

তিনি এ সাফল্যের জন্য সৌদি সরকার, বিশেষ করে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীর ব্যাংক হিসাবে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী বছরের হজের বিমানভাড়া ২০২৬ সালের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ ২০২৩ সালে হজের বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনায় বিমানভাড়াসহ ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের সামগ্রিক ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার নাগরিকদের অধিকার ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে। হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সেবামুখী করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে হজযাত্রীদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হজযাত্রীদের হয়রানি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, সেবার মান বাড়ানো এবং তাদের অর্থের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও কোনো হজযাত্রীর আর্থিক স্বার্থ ও ন্যায্য অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।