• ১৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আখাউড়ায় খাসির মাংস না পেয়ে বিয়ে ভেঙে দিলেন জাপান প্রবাসী যুবক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ণ
আখাউড়ায় খাসির মাংস না পেয়ে বিয়ে ভেঙে দিলেন জাপান প্রবাসী যুবক
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের খাবারে খাসির মাংস না থাকাকে কেন্দ্র করে বিয়ে পণ্ড হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ঐতিহ্যবাহী ‘খদর’ পরিবেশনের সময় খাবারে খাসির মাংস না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না করেই কনের বাড়ি থেকে চলে গেছেন জাপান প্রবাসী এক যুবক।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে। বর জুনায়েদ মিয়া পার্শ্ববর্তী কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত আয়োজন অনুযায়ী বরযাত্রীসহ জুনায়েদ মিয়া কনের বাড়িতে উপস্থিত হলে তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর গেট ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে খাবারের টেবিলে বসানো হয়। আত্মীয়-স্বজনদের আতিথেয়তার পর বিয়ের প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী বরপক্ষের সামনে ‘খদর’ পরিবেশন করা হয়।

এ সময় খাবারে খাসির মাংস না থাকায় আপত্তি তোলেন বর জুনায়েদ মিয়া। তিনি খাসির মাংস ছাড়া খাবার গ্রহণ করবেন না বলে জানান। এমনকি খাসির মাংসের ব্যবস্থা না করলে বিয়েতেও সম্মতি দেবেন না বলে নিজের অবস্থান জানান।

হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে কনেপক্ষের লোকজন হতভম্ব হয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে কনের বাবা শফিক মিয়াসহ আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বরকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কনের বাবা শফিক মিয়া জানান, খাসির মাংসের বিষয়টি তাকে আগে জানানো হলে তিনি নিজ দায়িত্বে এর ব্যবস্থা করতেন। কিন্তু বিয়ের আগে এ ধরনের কোনো দাবি তাকে জানানো হয়নি।

স্থানীয়দের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় বোঝানোর পরও বর তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না করেই তিনি কনের বাড়ি থেকে চলে যান।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কোনো বাবা-মাই চান না এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে। বরপক্ষের আচরণ ও কথাবার্তা কিছুটা অস্বাভাবিক ঠেকেছে। বহুবার বোঝানোর পরও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পর্ক খাবারের একটি পদকে কেন্দ্র করে ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তে কনেপক্ষ সামাজিক ও মানসিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।