• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপসাগরে নতুন উত্তেজনা: কাতারের কাছে জাহাজে হামলা, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ইরানের

হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র; লেবানন সীমান্তেও ইসরাইল-হিজবুল্লাহ পাল্টাপাল্টি হামলা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১০, ২০২৬, ২৩:২৯ অপরাহ্ণ
উপসাগরে নতুন উত্তেজনা: কাতারের কাছে জাহাজে হামলা, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ইরানের
সংবাদটি শেয়ার করুন....

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কয়েক দিনের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি হামলা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই কাতারের উপকূলে একটি মালবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে ইরান

তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবুধাবি থেকে কাতারের জলসীমায় প্রবেশের সময় মেসাইয়িদ বন্দরের উত্তর-পূর্বে একটি ড্রোন হামলায় জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানায়, একটি বাল্ক ক্যারিয়ার অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এতে ছোট আকারের আগুন লাগলেও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কোনো হতাহতের ঘটনা বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

তাৎক্ষণিকভাবে কেউ হামলার দায় স্বীকার না করলেও ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, হামলার শিকার জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী।

এর আগে শুক্রবার গালফ অব ওমান-এ ইরানের পতাকাবাহী দুটি জাহাজে গুলি চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেয় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজ দুটি ইরানের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এর জবাবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের ট্যাংকার বা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ও শত্রুপক্ষের জাহাজে “ভারী হামলা” চালানো হবে।

এদিকে কুয়েত-ও ড্রোন হামলার চেষ্টার কথা জানিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কুয়েতের আকাশসীমায় কয়েকটি শত্রু ড্রোন শনাক্ত করা হয় এবং তা প্রতিহত করা হয়েছে।

উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় পাঁচভাগের একভাগ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কড়াকড়ি করেছে এবং জাহাজ চলাচলে টোল ব্যবস্থা চালু করেছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইরানের বন্দরের উদ্দেশ্যে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা কিছু জাহাজকে অবরোধ, পথবিচ্যুত কিংবা অচল করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করে শান্তি আলোচনা শুরু করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের আনুষ্ঠানিক জবাব প্রকাশ্যে আসেনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শুক্রবারের মধ্যেই ইরানের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার কথা ছিল।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, “পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পদক্ষেপ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় মার্কিন পক্ষের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে।”

এদিকে, উপসাগরীয় সংকটের পাশাপাশি লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা বেড়েছে। ইসরাইল ও ইরানসমর্থিত হিজবুল্লাহ-এর মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।

লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি মহাসড়কেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা হিজবুল্লাহর ঐতিহ্যগত ঘাঁটির বাইরের এলাকা।

তিন সপ্তাহ আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সবচেয়ে তীব্র হামলাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, এর জবাবে তারা উত্তর ইসরাইলে অন্তত দুই দফা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিস্ফোরকবোঝাই কয়েকটি ড্রোন তাদের ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে। এতে একজন রিজার্ভ সেনা গুরুতর এবং আরও দুজন মাঝারি ধরনের আহত হয়েছেন।

এই উত্তেজনার মধ্যেই আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৪৮ সাল থেকে যুদ্ধাবস্থায় থাকা দুই দেশের সম্ভাব্য এ আলোচনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা।