এলজিইডিতে কাজ না করে বিল দেয়া আমিরুলকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের পাঁয়তারা
জাহেদী আরমান
প্রকাশিত জুন ২৪, ২০২৬, ২২:২৬ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কিশোরগঞ্জ জেলার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ সম্পন্ন না করেই শত কোটি টাকার অগ্রিম বিল প্রদান, নিম্নমানের অবকাঠামো নির্মাণ এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে এসব অনিয়ম করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জে কর্মরত থাকাকালীন ‘হাওর ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (HILIP)’–এর আওতায় কোনো কাজ বাস্তবায়ন ছাড়াই ভুয়া এলসিএস (LCS) কমিটির মাধ্যমে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম এলাকায় কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অর্থ বরাদ্দ হলেও প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ছিল অত্যন্ত সীমিত।
এছাড়া তাঁর দায়িত্বকালে বিভিন্ন এলাকায় নিম্নমানের সাবমার্জিবল (ডুবন্ত) সড়ক নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এসব সড়কের অনেকগুলো নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায় এবং কোথাও কোথাও সড়কের অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায় না।
ফলে জনগণের ভোগান্তি যেমন বেড়েছে, তেমনি বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প, আমফান প্রকল্প, আইআরআইডিপি প্রকল্প এবং জিওবি মেইনটেন্যান্সসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকৃত কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই শত শত কোটি টাকার অগ্রিম বিল প্রদান করা হয়।
এসব বিলের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অবৈধ সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে তাঁর দায়িত্বকালে অন্তত দুটি প্রকল্পে অগ্রিম বিল প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগকারীদের মতে, এগুলো তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সামগ্রিক অনিয়মের একটি ক্ষুদ্র অংশমাত্র।
ময়মনসিংহ অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আব্দুল্লাহপুর উত্তরপাড়া থেকে ঘোষের কান্দি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য ‘সরকার কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ ছাড়াই প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা অগ্রিম বিল প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ আছে।
আমফান প্রকল্পের আওতায় কাঠখাল বাজার থেকে বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের জন্য ‘মোজাহার এন্টারপ্রাইজ’কে প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অগ্রিম বিল দেওয়া হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও তাঁর পরিবারের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে আমিরুল ইসলাম প্রশাসনের ভেতরে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলেন।
এ কারণে তিনি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী কিংবা বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশনাকেও গুরুত্ব দিতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে এলজিইডি, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একাধিকবার তদন্ত কমিটি গঠন করলেও সেসব তদন্ত শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোনো ফলাফল বয়ে আনেনি। অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে তদন্তগুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়।
এদিকে সম্প্রতি এলজিইডির প্রধান কার্যালয় জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন The Southern Chattogram Regional Development Project (SCRDP)–এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে আমিরুল ইসলামের নাম প্রস্তাব করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তাদের আশঙ্কা, কাজ সম্পন্ন না করেই বিল প্রদানের অভিযোগে অভিযুক্ত একজন কর্মকর্তাকে যদি বিদেশি অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার কাছে এলজিইডি এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, কিশোরগঞ্জে আমিরুল ইসলামের দায়িত্বকালীন সময়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর আর্থিক লেনদেন, কাজের গুণগত মান এবং অগ্রিম বিল প্রদানের বিষয়গুলো পুনরায় তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, মন্ত্রণালয়ে জমা থাকা অভিযোগ ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য,
উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে মো. আমিরুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অগ্রিম বিল দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা, উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে বিল তৈরি করে বিভিন্ন টেবিল হয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে বিল আসে,এ প্রেক্ষিতে যথাযথ নিয়ম পালন করে বিল প্রদান করা হয়।
আমাকে সামাজিকভাবে হেও প্রতিপন্ন করার জন্য বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ব্যাপারে বলেন, বেশ কয়টি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পদে পদায়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভাইবায় অংশগ্রহণ করেছি।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিয়ার একটি প্রকল্পের ভাইবা দিয়ে এসেছি।
সংখুব্ধ একটি মহল আমাকে নিয়ে বিভিন্ন প্রাগন্ডা ছড়াচ্ছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক।