প্রাথমিক শিক্ষাকে দক্ষতাভিত্তিক ও শিশুবান্ধব করতে সরকার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে -ববি হাজ্জাজ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ২৪, ২০২৬, ২১:১৩ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও শিশুবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এ লক্ষ্যে জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থার সফল অভিজ্ঞতা, কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
আজ সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সাথে তাঁর কার্যালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো (Takahashi Junko)-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সাক্ষাতকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করছে। এতে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে সিভিক এডুকেশন, ক্রীড়া শিক্ষা, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জিং ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, জাপানের নাগরিক শিক্ষা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও নাগরিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে আমরা জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে চাই।
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘ম্যাথ ল্যাব’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ল্যাবের মতো গণিত শিক্ষাকে আরো আকর্ষণীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধাপে ধাপে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ বিষয়ে জাইকার কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থাইল্যান্ড ও তুরস্কের শিক্ষা প্রশাসন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করছে। মাঠপর্যায়ের অফিসসমূহের দায়িত্ব, জবাবদিহিতা, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন (KPI) এবং মনিটরিং ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাইকা প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে চলমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম, শিক্ষা প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিশুবান্ধব শিক্ষার পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।
এসময় অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মোঃ মোখলেছুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় এবং জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।