• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষিতে প্রযুক্তির ছোঁয়া, রপ্তানিতে শার্শার আম

তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী মেলার উদ্বোধন

বেনাপোল, শার্শা, যশোর
প্রকাশিত মে ২০, ২০২৬, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
কৃষিতে প্রযুক্তির ছোঁয়া, রপ্তানিতে শার্শার আম
সংবাদটি শেয়ার করুন....

যশোরের শার্শায় কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও টেকসই কৃষি সম্প্রসারণে তিন দিনব্যাপী ‘কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। মেলায় স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ফলমূল, ফসল ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির নানা প্রদর্শনী স্থান পেয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শার্শা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আজিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম, শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান জহিরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

মেলার উদ্বোধনের পর উপজেলা অডিটরিয়ামে কৃষি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউএনও ফজলে ওয়াহিদ।

সভায় স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, দেশের মোট জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই নয়, কৃষি খাত ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক রূপও নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শার্শা অঞ্চল একসময় শুধু ধান চাষের জন্য পরিচিত ছিল। বর্তমানে এ অঞ্চলে সবজি ও ফল চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। বিশেষ করে শার্শার আম আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হচ্ছে। গত ১৭ মে শার্শা থেকে ৪০০ কেজি হিমসাগর আম ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে। গত বছর এ অঞ্চল থেকে প্রায় ৬ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানির জন্য যে আম সংগ্রহ করা হচ্ছে, তার একটি বড় অংশ শার্শা অঞ্চল থেকেই নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দীপক কুমার সাহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে কৃষির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষিকে আরও টেকসই ও লাভজনক করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আজিজুর রহমান বলেন, দেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর হলেও কৃষিতে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উন্নত উদ্যোগের ক্ষেত্রে এখনও ঘাটতি রয়েছে। কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যদি আরও আন্তরিকভাবে কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়, তবে দেশের কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে।

তিনি বলেন, “কৃষি প্রযুক্তি মেলার মাধ্যমে কৃষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়বে। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিই দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান জহির। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, কৃষক ও স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

তিন দিনব্যাপী এ মেলায় ১৪টি স্টলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, স্থানীয় কৃষিপণ্য, ফলমূল ও বিভিন্ন উদ্ভাবনী কৃষি উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলাটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।