চিকিৎসা খাতে কমিশন বাণিজ্য: আস্থার সংকট ও নৈতিকতার প্রশ্ন
মতামত ডেস্ক
প্রকাশিত এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
পারিবারিক কিংবা সামাজিক যে কোনো আলোচনায় এখন একটি বিষয় ঘুরেফিরে আসে—চিকিৎসা খাতে অতিরিক্ত টেস্ট, নির্দিষ্ট ওষুধ এবং হাসপাতাল রেফারেলের পেছনে কি কমিশন বাণিজ্য কাজ করছে? অনেকের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, রোগীর প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা ও ওষুধ নির্ধারণ করা হচ্ছে—যা শুধু অনৈতিকই নয়, বন্ধ হওয়া জরুরি।
চিকিৎসা একটি সেবামূলক পেশা, যেখানে মানুষের জীবন ও আস্থার প্রশ্ন জড়িত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কিছু ক্ষেত্রে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ওষুধ কোম্পানি ও বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে আর্থিক স্বার্থ জড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা, নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওষুধ প্রেসক্রিপশন এবং রোগী রেফারেলের মাধ্যমে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠছে।
ডায়াগনস্টিক খাতে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। অনেক রোগীই জানেন না কোন পরীক্ষা সত্যিই প্রয়োজন, ফলে তারা অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের শিকার হন। একইভাবে ওষুধ কোম্পানির প্রণোদনায় দামী বা অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ে রোগীর ওপর—চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যায় এবং চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্কের ভিত্তি, অর্থাৎ বিশ্বাস, দুর্বল হয়ে পড়ে। একটি মহান পেশা ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক চাপে মানবিকতা হারাতে বসেছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)-এর নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ অবৈধ। কিন্তু কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতার অভাবে এই অনিয়ম রোধ করা যাচ্ছে না।
চিকিৎসা কোনো পণ্য নয়—এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই এই খাতে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।