• ৩রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ২৩:৫৬ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিনা সুলতানা (৩৩৫, মহিলা আসন-৩৫) এর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৈরি করা পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল।” দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানি নির্ভরতার কারণে বর্তমান জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টি কূপ খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হয়েছে।

বর্তমানে আরও সাতটি কূপ খননের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কূপের কাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে আরও ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে বলে জানান তিনি। অবশিষ্ট কূপগুলো খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড—বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করতে দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অফশোর ও অনশোরে গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি বা গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে।

এ ছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত এসব টার্মিনাল স্থাপন করা হলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।