• ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অঙ্গীকারের প্রশংসা তাকাইচির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
তারেক রহমানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অঙ্গীকারের প্রশংসা তাকাইচির
সংবাদটি শেয়ার করুন....

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন ও জাতি গঠনের প্রচেষ্টায় জাপান জোরালো সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী নিজের আনুষ্ঠানিক ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান।

পোস্টে সানায়ে তাকাইচি লেখেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধু রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের জাতি গঠনমূলক উদ্যোগগুলোকে জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে।

দুই নেতার বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রতি জাপানের স্বীকৃতি এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ প্রতিফলিত হয়েছে।

তাকাইচি বলেন, একটি ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্তকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, দুই দেশের নেতা ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। উদ্যোগটি বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম ভিত্তি।

দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই উদ্যোগকে ‘শেয়ারিং প্রসপারিটি বিগ-বি’ নামে নতুন একটি কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোয় উন্নীত করা হবে বলেও জানান তাকাইচি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৭ কোটি মানুষের বৃহৎ ও তরুণ জনগোষ্ঠীর বাজার হিসেবে বাংলাদেশ জাপানের অর্থনীতির জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্তকারী দেশ হিসেবেও বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই জাপানের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টির প্রশংসা করেন তিনি।

এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। তিনি জাপানকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি বিশেষ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের প্রতি জাপানের অবিচল সমর্থনের বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি।

তাকাইচি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হবে।

শীর্ষ সম্মেলনের পর প্রকাশিত দুই দেশের নেতৃবৃন্দের যৌথ বিবৃতিকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাকাইচি বলেন, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের আওতায় যৌথ বিবৃতির আলোকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে একসঙ্গে কাজ করা হবে।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

এই শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের অভিন্ন মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির বিষয়ে দুই দেশের অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।