• ১৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরীহ মানুষ কেন হয়রানির শিকার?

ডামুড্যার সবুজ মেলকারকে ঘিরে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত এপ্রিল ১, ২০২৬, ২০:১৬ অপরাহ্ণ
নিরীহ মানুষ কেন হয়রানির শিকার?
সংবাদটি শেয়ার করুন....

শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর গ্রামের এক পরিচিত নাম—সবুজ মেলকার। একটি সম্মানিত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া এই তরুণ ব্যবসায়ী এলাকায় পরিচিত তার সহজ-সরল জীবনযাপন, ভদ্র আচরণ এবং অতিথিপরায়ণতার জন্য। তার পিতা আমির মেলকার ছিলেন একজন পুলিশ সদস্য, যার সততা ও দায়িত্বশীলতার স্মৃতি এখনো এলাকার মানুষের মুখে মুখে।
সবুজ মেলকার নিজেও অল্প বয়সে ব্যবসায় যুক্ত হয়ে নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন। তিনি শুধু একজন ব্যবসায়ী নন, বরং এলাকায় সামাজিকভাবে সক্রিয় একজন মানুষ। আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী—সব পক্ষের সঙ্গেই তার সুসম্পর্ক রয়েছে। এলাকার সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, মানুষের খোঁজখবর নেওয়া—এসব গুণ তাকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
গত ৫ আগস্টের পর দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যখন অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান বা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান, তখনও সবুজ মেলকার ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি কোথাও যাননি, বরং আগের মতোই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।
কিন্তু হঠাৎ করেই গত ২৭ তারিখে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় তার জীবন মোড় নেয় অন্যদিকে। ডিআইজি মামুন গ্রুপ ও সালামত খান পরিবারের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং পূর্বের কিছু তুচ্ছ ঘটনার জেরে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই সময় সন্ত্রাসী শাওন হাওলাদারের নেতৃত্বে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, যা প্রশাসনকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে।
এই ঘটনার পর শুরু হয় ধরপাকড়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—এই অভিযানে কেন জড়িয়ে পড়লেন সবুজ মেলকারের মতো একজন নিরীহ ও সামাজিক মানুষ?
প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জামিন পাওয়ার পরও স্বস্তি পাননি তিনি। আবারও জেলা ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ বিস্মিত, উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ।
স্থানীয় অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “যেখানে প্রকৃত দোষীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে, সেখানে একজন সহজ-সরল মানুষকে বারবার গ্রেফতার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তারা মনে করছেন, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে কিংবা প্রশাসনিক চাপ সামলাতে নিরীহ মানুষদের বলি করা হচ্ছে।
সবুজ মেলকার শুধু একজন ব্যক্তি নন—তিনি একটি পরিবারের ভরসা, একটি সমাজের নির্ভরতার প্রতীক। তার এই গ্রেফতার শুধু তাকে নয়, তার পরিবারকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি স্পষ্ট—
প্রশাসন যেন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনে এবং নিরীহ মানুষদের হয়রানি বন্ধ করে।
একটি দেশের উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন ন্যায়বিচার সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত হয়। বর্তমান সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা—সুশাসন, ন্যায় এবং মানবিকতা। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটুক সবুজ মেলকারের মতো নিরীহ মানুষের জীবনে।
কারণ, একজন নির্দোষ মানুষের কান্না কখনোই একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য গৌরবের নয়।