পরীক্ষামূলক ১২টি গাছ থেকে বাণিজ্যিক স্বপ্ন; কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ৩, ২০২৬, ২২:২২ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা প্রিয়দর্শী চাকমা পাহাড়ে ভিয়েতনামী লংগান (লিচু জাতীয় ফল) চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন। মাত্র ১২টি চারা দিয়ে পাঁচ বছর আগে শুরু করা পরীক্ষামূলক উদ্যোগ এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
প্রিয়দর্শী চাকমা জানান, পাঁচ বছর আগে দিনাজপুরে থাকা এক বন্ধুর মাধ্যমে ১২টি ভিয়েতনামী লংগানের চারা সংগ্রহ করে নিজ জমিতে রোপণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউব থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু করা সেই উদ্যোগ এবার উল্লেখযোগ্য ফল দিয়েছে।
তিনি জানান, চলতি মৌসুমে তার বাগানে প্রচুর ফলন হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি লংগান ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সমতলের বাজারে একই ফলের দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। উচ্চমূল্য এবং ব্যাপক চাহিদার কারণে লংগান চাষকে লাভজনক বলে মনে করছেন তিনি।
প্রিয়দর্শীর ভাষ্য, দেখতে অনেকটা দেশীয় লিচুর মতো হলেও ভিয়েতনামী লংগানের রসালো অংশ বেশি, বীজ ছোট এবং বছরে দুইবার ফলন পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তার বাগানে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই ভালো ফলন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পাহাড়ের মাটি লংগান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে মনে হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে নিজস্ব জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লংগান চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রিয়দর্শীর এ সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে তার বাগান পরিদর্শন করেছেন এবং নতুন এ ফল চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রানা বলেন, প্রিয়দর্শী চাকমার পরীক্ষামূলক লংগান চাষের সফলতা খাগড়াছড়ির কৃষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। কৃষি বিভাগও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে। তিন পার্বত্য জেলায় পরিকল্পিতভাবে লংগান চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে এটি কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ভিয়েতনামী লংগান একটি উচ্চমূল্যের লিচু জাতীয় বিদেশি ফল, যাতে প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। স্থানীয় বাজারে এর চাহিদাও বেশ ভালো।
তিনি জানান, প্রিয়দর্শী চাকমার সফলতা সম্পর্কে কৃষি বিভাগ অবগত রয়েছে এবং তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের এ ফল চাষে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কৃষি কর্মকর্তার মতে, পাহাড়ি এলাকায় অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি ভিয়েতনামী লংগান চাষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে পার্বত্য অঞ্চল দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় উচ্চমূল্যের ফল উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।