কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের জামিন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাসে হট্টগোলের পর আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে আটক করেছে যৌথবাহিনী।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিতে বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে আটক করে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
আটক সাদিকুর রহমান (লিংকন) বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি।
এর আগে মঙ্গলবার বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা এজলাসে ঢুকে বেঞ্চ ধাক্কাধাক্কি ও চিৎকার করেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
লিংকনকে আটকের পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা গারদখানা ঘিরে বিক্ষোভ করছেন। তাকে কারাগারে নিতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এ ঘটনায় আদালতে বিচারিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘আজকে আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে তার চেয়ার থেকে তুলে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদেরকে আমরা জিজ্ঞাসা করলে বলে, অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।’
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের এজলাসে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মধ্যে ওই ঘটনা ঘটে। সিটিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা এ ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তারিখ ও সময় উল্লেখ রয়েছে। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার বেলা ২টা ৩৯ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের দিকে ঘটনার শুরু। এর আগে দুপুরে আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন মঞ্জুর করার প্রতিবাদে চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জন করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তারা চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। ১ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ একটি মামলার শুনানি করছিলেন। কোর্ট রেজিস্ট্রার (জিআরও) ও কোর্ট পুলিশের তিনজন কনস্টেবল উপস্থিত ছিলেন। শুনানি চলা মামলাটির দুজন আইনজীবী আদালতে কথা বলছিলেন। এর মধ্যে আদালত কক্ষের ভেজানো দরজা খুলে চিৎকার করতে করতে একজন আইনজীবী এজলাসে প্রবেশ করেন। তার পেছনে আরও কয়েকজন আইনজীবী আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা এজলাসে বসার বেঞ্চগুলো হাত-পা দিয়ে ধাক্কা দিতে থাকেন। একজন আইনজীবী বিচারকের সামনে গিয়ে চিৎকার করে আঙুল তুলে কথা বলেন। তিনি বিচারকের সামনে থাকা একটি বেঞ্চে আঘাত করেন এবং বিচারককে উদ্দেশ্য করে আরও কিছু বলতে থাকেন। পরে তারা এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন। এজলাস কক্ষে প্রথম প্রবেশ করা আইনজীবী হলেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন।
এজলাসে হট্টগোলের আগে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জন করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। এ সময় তারা চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ কর্মসূচিতে আইনজীবীরা বিচারক অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়ত উল্লাহকে অপসারণ এবং জামিন বাতিলের দাবিতে অনির্দিষ্টকাল মহানগরের সব আদালত বর্জন করার ঘোষণা দেন।
প্রসঙ্গত: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পান। বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তিন নেতা জামিনে মুক্তি পান। জামিনপ্রাপ্ত অন্য দুজন হলেন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এবং বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান।##