• ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আরও দুই বছর সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী

‘লুটপাটের ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে সরকার কাজ করছে, স্থিতিশীলতা না থাকলে পুনরুদ্ধার ব্যাহত হবে’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১৩, ২০২৬, ১৫:৩৪ অপরাহ্ণ
ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আরও দুই বছর সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর ও লুটপাটের অর্থনীতিকে পুনরায় স্বাবলম্বী অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আরও অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন,
“এই সংকটময় সময়ে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির স্বার্থে জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।”

বুধবার সকালে উত্তরা কমিউনিটি সেন্টার-এ আয়োজিত মাসব্যাপী ইসলামী প্রতিযোগিতা ‘আলোকিত মাহে রমাদান’-এর চূড়ান্ত বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন

তথ্যমন্ত্রী বলেন,
“আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে বিগত সরকারের লুটপাট করা ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা পেয়েছি। প্রতিবছর ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের তুলনায় আমদানিতে ব্যয় অনেক বেশি।”

তিনি আরও বলেন,
“আসমান থেকে টাকা আসবে না। কঠোর পরিশ্রম, স্থিতিশীল পরিবেশ এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে হবে।”

আওয়ামী লীগ-এর সমালোচনা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যারা ভোটারবিহীনভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল, তারা জনগণের মধ্যে বিভাজন ও ধর্মীয় বিভেদ তৈরি করে ফায়দা নিতে চেয়েছিল।

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সঙ্গে গঠনমূলক বিতর্ক চললেও, সেই বিতর্ককে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কেউ যেন রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন,
“একসময় এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল যে মাদ্রাসার ছাত্র পরিচয় দেওয়া বা ধর্মীয় পোশাক পরাকেও সন্দেহের চোখে দেখা হতো। বর্তমান সরকার সেই ভয়ের সংস্কৃতি দূর করেছে।”

আলেম-ওলামাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,
“সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। আগামী দুই বছর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে না পারলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হবে।”

ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে তথ্যমন্ত্রী বলেন,
“এই দেশে হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। কোনো অপশক্তি যেন আমাদের এই ঐক্য নষ্ট করতে না পারে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক এবং হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী