• ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি কমল প্রায় ১.৯ লাখ টন, বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ১৫, ২০২৬, ২২:০০ অপরাহ্ণ
ভারতের নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি কমল প্রায় ১.৯ লাখ টন, বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ভারতের আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও শর্তের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় এই বন্দর দিয়ে ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৮ মেট্রিক টন। ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা ভারতীয় বিধিনিষেধের কারণে রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দরটি দিয়ে ভারতে রপ্তানি হয়েছিল ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন পণ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেই পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৮ মেট্রিক টন।

বন্দরের সাম্প্রতিক চিত্রেও আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। মঙ্গলবার ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে ৩০৫টি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৪৪টি ট্রাক। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর শর্তের কারণেই এ বৈষম্য তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ভারত কয়েক দফায় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নতুন শর্ত ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। গত বছরের ৮ এপ্রিল সড়কপথে ভারতের বিমানবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি বন্ধ করা হয়। এরপর ১৫ এপ্রিল পাট ও পাটজাত পণ্য সড়কপথে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। একই বছরের ১৭ মে জারি করা আরেকটি প্রজ্ঞাপনে স্থলপথে তৈরি পোশাক, সুতা, প্লাস্টিক, কাঠজাত পণ্য এবং ফল ও ফলজাত পণ্য আমদানিতেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুর হক বলেন, “বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরও ভারত আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও শর্ত প্রত্যাহার করেনি। ফলে বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।”

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, “ভারতের বাজারে বাধা তৈরি হলে বিকল্প বাজার সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।”

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান ট্রানজিট সুবিধা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। এতে বর্তমান বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটাই কমে আসবে।”

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, “রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে বন্দরসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও গতিশীল করার চেষ্টা চলছে।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি নতুন রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি বাণিজ্যের এই নিম্নমুখী ধারা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।