• ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন; যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলা, প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে সচেতনতার ওপর জোর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ১৩, ২০২৬, ১৩:২৬ অপরাহ্ণ
দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সংবাদটি শেয়ার করুন....

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য রাখতে নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের পরিবেশ রক্ষা এবং একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সোমবার সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল-বাটজোর খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশটাকে সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা নিজেরা যদি ঘর ও দেশ পরিষ্কার না রাখি, তাহলে বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের দেশ পরিষ্কার করে দিয়ে যাবে না। দেশকে সুন্দর রাখতে হলে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্ব নিতে হবে।”

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। বিশেষ করে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, মোড়ক কিংবা অন্যান্য বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলে পরিবেশ দূষণের কারণ না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ আমরা যে পরিবেশ নষ্ট করছি, এর সবচেয়ে বড় ক্ষতি বহন করবে আগামী প্রজন্ম। তাই পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।”

পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে ব্যক্তিগত অভ্যাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবহৃত টিস্যু তিনি কখনোই রাস্তায় বা জনসমাগমস্থলে ফেলেন না। বরং পকেটে রেখে বাসায় গিয়ে ডাস্টবিনে ফেলেন।

তিনি বলেন, “আমার পকেটে হাত দিলেই ব্যবহৃত টিস্যু পাওয়া যাবে। ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস গড়ে তুলেছি। সারাদিনে ব্যবহৃত টিস্যু রাতে বাসায় গিয়ে নির্ধারিত স্থানে ফেলি। এভাবেই ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি হয়েছে।”

তার মতে, প্রত্যেকে যদি ছোট ছোট ভালো অভ্যাস গড়ে তোলে, তাহলে পুরো দেশকেই পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানস্থলের পাশের খালে দুটি প্লাস্টিকের বোতল ভাসতে দেখে উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “একটি পরিবারের একজন সদস্য যদি সারাদিন ঘর পরিষ্কার করেন, আর বাকিরা যদি নোংরা করেন, তাহলে সেই ঘর কখনো পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। দেশও ঠিক তেমনই। কয়েকজন মানুষ শুধু পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করলে হবে না; সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, বাজার, সড়ক ও জনসমাগমস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা শুধু পরিবেশের সৌন্দর্যই নষ্ট করে না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি সৃষ্টি করে। তাই নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞাও নিতে হবে।

তিনি বলেন, “আসুন, আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করি। আমাদের আশপাশের পরিবেশ, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও জনস্থান যতটা সম্ভব পরিচ্ছন্ন রাখি। আজকের ছোট ছোট সচেতনতাই আগামী দিনের সুস্থ, সবুজ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি হবে।”

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।