• ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে প্রযুক্তি রপ্তানিতে জোর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ৯, ২০২৬, ১৫:৪০ অপরাহ্ণ
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে প্রযুক্তি রপ্তানিতে জোর
সংবাদটি শেয়ার করুন....

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং উদ্ভাবক ও রপ্তানিকারক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। এ লক্ষ্য অর্জনে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও রপ্তানির সক্ষমতা বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের প্রধান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক ও প্রবাসী আয়নির্ভরতার পাশাপাশি উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি ও সেবাকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য রপ্তানি বহুমুখীকরণ, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণ জরুরি।

আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাম্বাসেডর ফেরদৌস শাহরিয়ার অডিটোরিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘এআই অ্যান্ড ইনোভেশন’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। একই সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে প্রায় ৩০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন।

তৈরি পোশাক ও প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় শক্তি হলেও সীমিত কয়েকটি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো সংকট দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে উল্লেখ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এআইকে শুধু সরকারি কাজ দ্রুত করার প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না। সফটওয়্যার, আউটসোর্সিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাত থেকে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারে।

তিনি বলেন, ছোট দেশ হয়েও ইসরাইল হাজার হাজার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে শক্তিশালী প্রযুক্তিশিল্প প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ ও মেধাবী জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়েও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব।

সম্প্রতি বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সিলিকন ভ্যালি সফরের প্রসঙ্গ তুলে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, অ্যাপল, মেটা ও এনভিডিয়ার মতো বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। অ্যানথ্রপিকও বাংলাদেশে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানান তিনি।

বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উইংকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উইংগুলোকে কেবল আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। নতুন উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ভোক্তা হওয়া নয়; প্রযুক্তির উদ্ভাবক, মালিক ও রপ্তানিকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া।

দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি সেবা, ডিজিটাল পরিচয়, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার জন্য কার্যকর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সমাধান তৈরিতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, দেশে তৈরি এসব প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব।

এ ছাড়া দেশের বড় বাজারকে কাজে লাগিয়ে হার্ডওয়্যার উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা শুধু সেমিনার বা সংলাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসায়ী সমাজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দ্রুত বাস্তবমুখী ও সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...