২২ দিন পর সচল হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি, সৌদি থেকে এলো ১.৩৯ লাখ টন ক্রুড অয়েল
কুতুবদিয়ায় নোঙর ‘এমটি নিনেমিয়া’; লাইটারিং শেষে বৃহস্পতিবারই চালু হতে পারে পরিশোধন কার্যক্রম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ৬, ২০২৬, ২২:০৩ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
দীর্ঘ ২২ দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় সচল হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। সৌদি আরব থেকে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত (ক্রুড) তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’ বুধবার (৬ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর কুতুবদিয়া এলাকায় নোঙর করেছে।
জানা গেছে, জাহাজটিতে প্রায় ১ লাখ ৩৯৫ টন ক্রুড অয়েল রয়েছে। কাস্টমস ও সার্ভেয়ার কোম্পানির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলের মধ্যেই ইআরএলের ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট পুনরায় চালু করা সম্ভব হতে পারে।
ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত জানান, আমদানি করা তেল দ্রুত শোধনাগারে পৌঁছানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই পরিশোধন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছিল। তবে নতুন চালান আসায় আবারও উৎপাদন শুরু হচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, বিশাল আকারের জাহাজটি সরাসরি বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়তে না পারায় ছোট ট্যাংকারের মাধ্যমে (লাইটারিং প্রক্রিয়ায়) তেল খালাস করে কর্ণফুলী নদীপথে আনা হবে।
তিনি বলেন, ২৪৯.৯৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি নিরাপদে দেশে পৌঁছেছে এবং কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে। লাইটারিং শেষে দ্রুত তেল ইআরএলের ট্যাংকে স্থানান্তর করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে এবার বিশেষ কৌশলে তেল আমদানি করা হয়েছে। সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দর থেকে ২০ এপ্রিল জাহাজটি যাত্রা শুরু করে।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, এই চালানের তেল দিয়ে শোধনাগার প্রায় ২৫ দিন চলতে পারবে। পাশাপাশি ১০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন তেলের নতুন চালান পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ধারাবাহিকভাবে তেল আমদানির ফলে ভবিষ্যতে জ্বালানির কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯২ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত শোধন কার্যক্রম চালু হলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।