• ২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে সরকার – কৃষিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২, ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে সরকার – কৃষিমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা মোকাবিলায় নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে সরকার গবেষণাভিত্তিক কৃষি উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, আগামী মৌসুমে হাওর অঞ্চলের জন্য ব্রি ধান-১১৮ অবমুক্ত করা হবে। শীত সহনশীল এ জাতের ধান আগাম রোপণ ও আগাম কর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ফলে আকস্মিক বন্যার আগেই কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন এবং ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
আজ কুমিল্লা সার্কিট হাউজে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা জেলার সকল দপ্তর/সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মাছ রপ্তানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, আগামী বছর লবণাক্ততা সহনশীল নতুন একটি ধানের জাত অবমুক্ত করা হবে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উপযোগী ফসলের জাত উদ্ভাবনে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
মৎস্য বিপণন অবকাঠামো প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলে মাছের ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। উপযুক্ত সরকারি জমি পাওয়া গেলে ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশের ভোক্তারা সাধারণত মিঠাপানির মাছ তাজা অবস্থায় কিনতে আগ্রহী। তাই সংরক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক বাজারজাতকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ খাতের ভ্যাকসিন উৎপাদন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গবাদিপশুর পাশাপাশি হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিনও অধিক পরিসরে দেশে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং প্রাণিসম্পদ খাত আরো শক্তিশালী হবে।
সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে বন্যা-পরবর্তী সময়ে রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ খোরশেদ আলম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ ওবায়দুর রহমান মন্ডল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ আধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।