সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বেড়ে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার টন, বাড়ছে সংরক্ষণ সক্ষমতাও
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টনে। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২২ লাখ ১০ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন। সে হিসাবে গত সাত মাসে মজুত বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন। বর্তমানে মোট মজুতের মধ্যে চাল ২০ লাখ ৩৬ হাজার ১০২, গম ২ লাখ ৩২ হাজার ১৮৩ এবং ধান রয়েছে ৩৪ হাজার ৭০ মেট্রিক টন। ফ্লোটিং মজুতসহ গম রয়েছে আরও ৬৮ হাজার ৭২৩ মেট্রিক টন। এর আগে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন। সেই তুলনায় বর্তমানে মজুত বেড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টন। আর ২০২৪ সালের একই সময়ে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন, অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সরকারি মজুত বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার টন। একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে সরকারি খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতাও। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগে সরকারি গুদামগুলোর মোট ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে তা বেড়ে ২৭ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এই সক্ষমতা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বিবেচনায় নিরাপদ খাদ্য মজুতের মানদণ্ডও ১৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৬ লাখ মেট্রিক টন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমেও অগ্রগতি হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধান ও চাল মিলিয়ে মোট ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান ৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৪০, সিদ্ধ চাল ১২ লাখ ১ হাজার ৫৬৮ এবং আতপ চাল ১ লাখ ৫ হাজার ৩১৩ মেট্রিক টন। এছাড়া সংগ্রহ করা হয়েছে ৫২৩ মেট্রিক টন গম। খাদ্যশস্যের মজুত শক্তিশালী রাখতে আমদানিও অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মোট ৮ লাখ ২৭ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ৬৫ হাজার ৮৬০ এবং বেসরকারি পর্যায়ে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ শাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বাসসকে জানান, চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং সরকারি খাদ্যগুদামে বর্তমানে চাল ও গমের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তিনি বলেন, এই মজুত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা, বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সহায়ক হবে। খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, জাতীয় চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্যশস্যের মজুত ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। অন্যদিকে খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন বলেন, বর্তমান খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুতের পাশাপাশি সঠিক সংরক্ষণ ও খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পর্যাপ্ত সরকারি মজুত দেশের বাজারে খাদ্যশস্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।