জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১৭:৪৮ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
সংবাদটি শেয়ার করুন....
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের গুরুত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
এর আগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরে স্বাগত জানান। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি দর্শনার্থী টিকিট সংগ্রহ করে জাদুঘরে প্রবেশ করেন। পরে ‘লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ের ঐতিহাসিক চিত্র দেখেন। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে শহীদ ব্যক্তিদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘর পরিদর্শন করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্রও দেখেন রাষ্ট্রপতি।
এ সময় তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি। গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি।’ তিনি বলেন, রাষ্ট্র কখনোই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। দেশে যেন আর কোনো দিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে—এ প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতন সামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। এ সময় শহীদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ঘটনা এবং ছাত্র-জনতার সংগ্রামের অংশগুলো ঘুরে দেখেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি তাঁদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণও করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে জুলাই জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্র সম্পর্কে অবহিত করেন।
পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবদের পাশাপাশি জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন।