• ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব জাতিসত্তার অংশগ্রহণে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সংস্কৃতিমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ২৩:৪৩ অপরাহ্ণ
সব জাতিসত্তার অংশগ্রহণে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সংস্কৃতিমন্ত্রীর
সংবাদটি শেয়ার করুন....

পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই উল্লেখ করে সব জাতিসত্তা ও জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় জাতিসত্তা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিই জাতীয় পরিচয়ের প্রধান শক্তি।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, পেশা কিংবা বসবাসের স্থান বিবেচনায় কোনো মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না। পাহাড় ও সমতলের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়েই একটি সর্বাঙ্গীণ ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বান্দরবানের রাজার মাঠে ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও সমতলকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় জাতিসত্তা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বর্ণিল সংস্কৃতি জাতীয় পরিচয়ের মূল শক্তি। সব জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, পাহাড় ও সমতলকে এক করে অভিন্ন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী, সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। প্রত্যেকেরই সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি, সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন এবং সব সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের যেখানেই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস হোক না কেন, তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ, আধুনিক শিক্ষা এবং উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।

সাচিং প্রু আরও বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রনির্বিশেষে সবার সমঅধিকার নিশ্চিত করে সৌহার্দ্য ও সাম্যের ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেখেছেন, তা বাস্তবায়নে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সরকার এ লক্ষ্যেই কাজ করছে।

‘রেইনবো নেশন’-এর ধারণা বাস্তবে রূপ দেওয়া এবং পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করতে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে পার্বত্য অঞ্চলে একটি বৃহৎ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। বান্দরবান পৌরসভার উৎসব উদ্‌যাপন পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এ ছাড়া বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার (৬৯ পদাতিক ব্রিগেড) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।