ডামুড্যায় জমি মাপজোক নিয়ে বেসরকারি আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
১২ শতাংশ জমির হিসাবের বাইরে আরও ৬ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ২৩:৩৫ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের আতলা কুড়িগ্রাম এলাকায় ওয়ারিশি সম্পত্তি মাপজোককে কেন্দ্র করে জমির সীমানা ও দখল নিয়ে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। মরহুম মগদম আলী সরদারের দ্বিতীয় পক্ষের ওয়ারিশদের সম্পত্তি মাপজোক করতে গিয়ে বেসরকারি আমিন আজিজ মিয়া অন্য শরিকদের জমির মধ্যে ঢুকে অতিরিক্ত জমি বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই সম্পত্তিতে দুই ভাইয়ের অংশের জমির পরিমাণ বিআরএস জরিপ অনুযায়ী ছিল ২২ শতাংশ। এর মধ্যে আলাউদ্দিন সরদার ১০ শতাংশ জমি অন্যত্র বিক্রি করে দেন। ফলে সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী অবশিষ্ট থাকে ১২ শতাংশ জমি, যা কালু সরদারের পাওয়ার কথা।
অভিযোগ রয়েছে, জমি মাপজোকের জন্য ডামুড্যা উপজেলাধীন কুলকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা বেসরকারি আমিন আজিজ মিয়াকে ভাড়া করেন দুই ভাই। সেখানে ১০ শতাংশ জমির ক্রেতাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সময় সীমানা নির্ধারণে অন্য শরিকদের জমির অংশও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া, কালু সরদারের জন্য অবশিষ্ট ১২ শতাংশ জমি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাশের শরিকদের জমির সীমানার মধ্যে ঢুকে আরও প্রায় ৬ শতাংশ জমি অতিরিক্তভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, এভাবে জমি মাপজোক ও সীমানা নির্ধারণের ফলে অন্য শরিকদের ভোগদখলীয় সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পর্চায় ২২ শতাংশ জমির হিসাব, অতিরিক্ত জমি বুঝিয়ে দেওয়ার প্রশ্ন
জমি মাপজোকের সময় বেসরকারি আমিন আজিজ মিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয়, দুই ভাইয়ের মোট ২২ শতাংশ জমির মধ্যে বড় ভাই আলাউদ্দিন সরদার ১০ শতাংশ জমি বিক্রি করে দেওয়ার পর অবশিষ্ট থাকে ১২ শতাংশ। তাহলে অবশিষ্ট ১২ শতাংশের বাইরে অতিরিক্ত জমি কীভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হলো?
এ প্রশ্নের জবাবে আমিন আজিজ মিয়া জানান, তাঁর হাতে পর্চা রয়েছে এবং সেই পর্চা অনুযায়ী তিনি ২২ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেবেন। তখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কাগজপত্রে উল্লেখিত জমির পরিমাণের বাইরে অতিরিক্ত জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ কোথায়?
জবাবে আজিজ মিয়া বলেন, “ওইখানে একটু জমি বেশি আছে।” অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, জমি বেশি থাকলেই কি ২২ শতাংশের বাইরে অন্য শরিকদের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে? তাঁদের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
জমির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
অভিযোগকারীদের দাবি, জমির দলিল, পর্চা, খতিয়ান ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা এবং সীমানা নির্ধারণ করা হোক। একই সঙ্গে বেসরকারি আমিন আজিজ মিয়ার মাপজোকের পদ্ধতি ও জমি বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে, আমিন আজিজ মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী তাঁর বিচারসহ প্রয়োজনে আমিন সনদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা