কয়েক সপ্তাহে দেশে রাজনৈতিক আবহাওয়া বদলেছে দ্রুত: জিল্লুর রহমান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
জিল্লুর রহমান। ফাইল ছবি
সংবাদটি শেয়ার করুন....
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেছেন, রাজনীতিতে অনেক সময় ঘটনাগুলো শুধু খবর হিসেবে থাকে না, সেগুলো একসময় পরিণত হয় সামগ্রিক আবহাওয়ায়। গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশে সেই রাজনৈতিক আবহাওয়া দ্রুত বদলে গেছে। রাজধানীর উত্তরা থেকে বিজয়নগর পর্যন্ত এবং ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় খুন, গুলি, হামলা ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাগুলো এক ধরনের অস্বস্তিকর ধারাবাহিকতার চিত্র তুলে ধরছে। তিনি সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের একটি ভিডিওতে এসব মন্তব্য করেন। জিল্লুর রহমান বলেন, আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে পৌঁছেছি, যেখানে নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা আর ব্যতিক্রম হিসেবে নেই; বরং সহিংসতার সম্ভাবনাই এখন পরিকল্পনার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্র কী করছে? দেখা যাচ্ছে অভিযান, নির্দেশনা, সতর্কতা, পুরস্কার ঘোষণা, অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট ফেজ টু’-এর পর আরও অপারেশন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখার আশ্বাস। তার মতে, এসব পদক্ষেপ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এগুলো কি কেবল প্রতিক্রিয়া, নাকি প্রতিরোধের সক্ষমতা? প্রতিক্রিয়া মানে ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়া, আর প্রতিরোধ মানে ঘটনার আগেই শক্তিশালী গোয়েন্দা তৎপরতা, অস্ত্র উদ্ধার, দ্রুত অপরাধ শনাক্তকরণ, বিচারপ্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং সবার জন্য সমান নিরাপত্তা ও সমান আইনি আচরণ নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, আরেকটি বড় বাস্তবতা হলো অবৈধ অস্ত্রের ছায়া। গণঅভ্যুত্থানের সময় থানা-ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের বড় একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। এ ধরনের তথ্য জনমনে ভয় তৈরি করে, কারণ যখন অস্ত্র সমাজে ঘুরে বেড়ায় তখন রাজনীতি ও অপরাধ এক হয়ে যায়, আর এই মিশ্রণ নির্বাচনী পরিবেশকে বিষাক্ত করে। একজন সাধারণ ভোটার যখন মনে করেন ভোট দিতে গেলে সহিংসতার ঝুঁকি আছে, তখন তিনি নিজের নিরাপত্তাকে গণতন্ত্রের চেয়ে বড় করে দেখেন। এটা মানুষের দোষ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার কঠিন ফল। তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে রাজনীতির মাঠে বড় ঢেউ তৈরি হচ্ছে— বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা। ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন বলে ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা, ঢাকামুখী সমাবেশের প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ নির্বাসনের পর এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির কাছে শুধু সাংগঠনিক নয়, আবেগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে এখানেও ঝুঁকি রয়েছে— একদিকে প্রত্যাবর্তনের উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে সহিংসতার আশঙ্কা— এই দুই পরিস্থিতি একই দিনে ঢাকায় এসে মুখোমুখি হতে পারে। যদি লাখো মানুষের সমাবেশ হয়, তবে সেটি রাষ্ট্রের জন্য বড় নিরাপত্তা পরীক্ষা। এই পরীক্ষা বিএনপির যেমন, তেমনি সরকারেরও, কারণ বড় রাজনৈতিক সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়াও রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।