• ২২শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষিদ্ধ করে জনগণের কণ্ঠ ও ইতিহাসকে বন্দী করা যায় না: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২২, ২০২৬, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
নিষিদ্ধ করে জনগণের কণ্ঠ ও ইতিহাসকে বন্দী করা যায় না: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কিছু সময়ের জন্য কোনো বক্তব্যকে নিষিদ্ধ করতে পারে, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে; কিন্তু চিরদিনের জন্য সব মানুষকে বিভ্রান্ত করা কিংবা জনগণের সম্মিলিত অনুভূতিকে বন্দী করে রাখা সম্ভব নয়।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সাংবাদিক ইমরুল কায়েস রচিত ‘তারেক রহমান: নিষিদ্ধ সময়ে নিষিদ্ধ প্রচার’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘মাতৃভাষা প্রকাশ’ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি তার নিজের গতিতে চলে, স্রষ্টার আইন তার নিজের গতিতে চলে, জনগণের সম্মিলিত অনুভূতিও তার নিজস্ব গতিতে চলে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চক্রান্ত তাকে কেবল কিছু সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারে, কিন্তু সব সময়ের জন্য সব মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায় না এবং কোনো সময়কে নিষিদ্ধ করে বন্দী করে রাখা যায় না।

তিনি বলেন, নিষিদ্ধ করার ক্ষমতার মধ্যে হয়তো এক ধরনের ঔদ্ধত্যের নেশা থাকতে পারে; কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞার পরিণাম অনেক সময় আরও ভয়াবহ হয়।

তথ্যমন্ত্রী যারা নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করে তাদের মনোজগৎকে বোঝা ও তাদের ব্যর্থ প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় জনগণের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ততা ও আবেগ তৈরি হয় তা বোঝা জরুরি বলে উল্লেখ করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শক্তি নিজেদের কর্মকাণ্ডকে নানা আদর্শ ও যুক্তির মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাকে দীর্ঘদিন দমন করে রাখা সম্ভব হয়নি।

জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক চেতনাকে দমন করার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি ইতিহাসের বিভিন্ন উদাহরণ টেনে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট শেখ হাসিনার হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ার কারণে তাকে দেশের সীমানার বাইরে পালিয়ে যেতে হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, দেশের জন্য তিনি যে ঝুঁকি নিয়েছেন এবং তার মা, পরিবার ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার ফলে জনগণের মধ্যে গণতন্ত্রের প্রতি আগ্রহ, স্পৃহা ও অনুপ্রেরণা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, এই বইয়ের নিবন্ধগুলোর মধ্য দিয়ে সেই ঐতিহাসিক সত্য আবারও সামনে আসবে।

‘তারেক রহমান: নিষিদ্ধ সময়ে নিষিদ্ধ প্রচার’ বইটি কেবল তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে লেখা নয়; বরং একটি বিশেষ ‘মনোজগৎ’কে ঘিরেও আলোচনা বিস্তৃত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী মনোজগৎ শেষ পর্যন্ত কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনেনি বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘তারেক রহমান: নিষিদ্ধ সময়ে নিষিদ্ধ প্রচার’ বইটি পাঠকদের মধ্যে ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা, রাজনৈতিক বিবেক ও গণতান্ত্রিক বোধ আরও জাগ্রত করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব।

বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) এর মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।