• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুরে ‘মেগা লুটপাটের’ অভিযোগ: কঠোর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

‘বালিশ কাণ্ড’ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার—রূপপুর প্রকল্পে অনিয়মের বিস্ফোরক বর্ণনা তারেক রহমানের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১১, ২০২৬, ১৭:৫৮ অপরাহ্ণ
রূপপুরে ‘মেগা লুটপাটের’ অভিযোগ: কঠোর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যয়ের হিসাব তদন্তের আওতায় আনা হবে।

রাজধানীতে এক সভায় দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রূপপুর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে ব্যয় বাড়িয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করেছে। বিশেষ করে আবাসন নির্মাণ, আসবাবপত্র ক্রয় এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণকে তিনি “জনগণের সঙ্গে প্রতারণা” বলে অভিহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের মানুষের জন্য একটি স্বপ্নের প্রকল্প হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই প্রকল্পের আড়ালে যে লুটপাট হয়েছে, তা ইতিহাসে বিরল। একটি সাধারণ বালিশ ভবনের ওপরে তোলার খরচ দেখানো হয়েছে হাজার হাজার টাকা। কেটলি, টেলিভিশনসহ সাধারণ জিনিসপত্র কেনার নামেও লাখ লাখ টাকা নয়ছয় করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, বিদেশি ঋণের অর্থ ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি নিজেদের ভাগ্য গড়ে তুলেছে। প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা সরকারের হাতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই টাকা দেশের কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ। যারা এই অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিটি টাকার হিসাব নেওয়া হবে।”

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দাবি করেন, প্রকল্পটির কারিগরি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও ছিল ব্যাপক অস্বচ্ছতা। আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ব্যয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

সরকারপ্রধানের ভাষণে বহুল আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ড’ আবারও সামনে চলে আসে। এর আগে রূপপুর প্রকল্পে আসবাবপত্র ক্রয় ও বহনের ব্যয় নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ ধরনের দুর্নীতি শুধু রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষতিই করেনি, জনগণের আস্থাকেও ধ্বংস করেছে।”

তিনি আরও বলেন, দেশে আর কোনো “লুটপাটের রাজত্ব” চলতে দেওয়া হবে না এবং মেগা প্রকল্পের নামে গড়ে ওঠা দুর্নীতির নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সরকারের সময় বাস্তবায়িত বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরকারের এই অবস্থান আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে রূপপুর প্রকল্পের মতো আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনাকে ঘিরে তদন্ত কার্যক্রম কতদূর এগোয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর সবার।