• ১লা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণতন্ত্র সুরক্ষায় রাজনৈতিক ঐকমত্য জরুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাকশাল ও পঞ্চদশ সংশোধনীকে বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকটের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ১, ২০২৬, ০০:০৪ পূর্বাহ্ণ
গণতন্ত্র সুরক্ষায় রাজনৈতিক ঐকমত্য জরুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা ধারণ করে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য ও পারস্পরিক সমঝোতা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে দেশে যাতে স্বৈরতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনরুত্থান না ঘটে, সে জন্য সাংবিধানিক সংস্কারের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।

আজ ঢাকার শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটারে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। গণতন্ত্রের সুরক্ষায় কার্যকর ‘ওয়াচডগ’ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই এ ধরনের ব্যবস্থা দেশের সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করেছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার উত্থানের পথ তৈরি করে। তাঁর মতে, এসব রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ। প্রধান বক্তা ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আলোচনায় অংশ নেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।

এ সময় উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণভোটসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।