• ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী ও দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০৩:৪১ পূর্বাহ্ণ
উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী ও দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সংবাদটি শেয়ার করুন....

উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রবাসী ও দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের টোকিওতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

বুধবার সন্ধ্যায় টোকিওর নিউ ওতানি হোটেলে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রবাসীরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশের জন্য ভালো কিছু করাই সরকারের প্রথম লক্ষ্য। দেশে কিংবা বিদেশে অবস্থান, যেখানেই থাকুন না কেন, প্রত্যেকের কাজের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের উপকার হলে সেই চেষ্টা করা উচিত। বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে পারলে দেশে ও প্রবাসে থাকা সব বাংলাদেশিই এর সুফল পাবেন।

প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে ইংরেজির পাশাপাশি জাপানিসহ তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ চালু করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, জাপানি, জার্মান, ফরাসিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ রাখা হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী একটি ভাষা বেছে নিতে পারবে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী বছর থেকে স্কুলগুলোতে এসব ভাষা শেখানোর কার্যক্রম চালুর প্রত্যাশা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিদেশি ভাষায় দক্ষতা এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে।

স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুরা যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান, তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

তিনি জানান, বর্তমানে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ৫০টি করে শয্যা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এসব হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালু এবং নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামের মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা বা বিভাগীয় শহরে ছুটতে হবে না। দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা গেলে বড় হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সহজ হবে।

প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যকর্মীদের অন্তত ৮০ শতাংশ নারী হবেন। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, পুষ্টি, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করবেন।

তারেক রহমান বলেন, মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা গেলে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ কমবে। একই সঙ্গে চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপও হ্রাস পাবে।

জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি। কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং দেশটির সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দিয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীদের দেশে কাজে লাগানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও আগ্রহী হতে হবে। জাপানি ভাষার শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও প্রত্যাশার তুলনায় কম আবেদন পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে সম্ভাব্য উদ্যোগ নেওয়ার পথ খুঁজে দেখা যেতে পারে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিদেশে থাকলেও সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জনশক্তির দক্ষতা বাড়ানোর মতো ক্ষেত্রগুলোতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করা উচিত।

জাপান বিএনপির সভাপতি মীর রেজাউল করিম রেজার সভাপতিত্বে সভায় দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।