আসন্ন রমজান মাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও অংশগ্রহণের বাস্তবতা বিবেচনায় ছুটির তালিকা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. আবুল কাসেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, খায়রুন নাহার লিপি ও মু. মাহবুবর রহমানের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রওশন আরা পলির স্বাক্ষরিত একটি বাৎসরিক ছুটির তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে দাপ্তরিকভাবে এই ছুটির তালিকার সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে সন্দেহ রয়েছে। যদি তালিকাটি সঠিক হয়, তাহলে সেখানে কিছু অসংগতি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে, যা অনিচ্ছাকৃত ভুল বা প্রিন্টিং জটিলতার ফল হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অতীত বছরগুলোতে শুক্র ও শনিবার ছুটির তালিকায় ‘শূন্য দিন’ হিসেবে বিবেচিত হতো। চলতি তালিকাতেও ২, ৬, ১৩, ২০, ২২ ও ২৩ নম্বর ক্রমিকে শুক্র ও শনিবার হওয়ায় শূন্য দিন ধরা হয়েছে।
কিন্তু একই তালিকার ৮ নম্বর ক্রমিকে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ঘোষিত ছুটির মধ্যে দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবারকে ছুটির দিন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আবার ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত ১০ দিনের ছুটির মধ্যেও শুক্র ও শনিবার যুক্ত করা হয়েছে। এতে মোট ৬ দিন অতিরিক্ত ছুটি হিসেবে গণনায় এসেছে।
এই অসামঞ্জস্যের কারণে শিক্ষক সমাজ ও সচেতন অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। তারা মনে করছে, এ ধরনের বিভ্রান্তি অনভিপ্রেত এবং দ্রুত সংশোধন জরুরি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রমজান মাস মুসলমানদের জন্য একটি পবিত্র সময়। এ সময় সিয়াম পালন করে শ্রেণি পাঠদান করা শিক্ষকদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। পাশাপাশি অনেক প্রাথমিক শিক্ষার্থী রোজা রেখে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়, যা কোমলমতি শিশুদের জন্য শারীরিকভাবে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষক নারী হওয়ায় বিদ্যালয়ের কাজ শেষে বাসায় ফিরে ইফতার প্রস্তুতির চাপও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। এ প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ ছুটির তালিকাটি বাস্তবতা ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন ও পুনঃপ্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।