জুলাই সনদ নিয়ে সমাধান সংসদে হতে হবে, লং মার্চ করে নয়: রিজভী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে, লং মার্চের মাধ্যমে নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির আপত্তি নেই; তবে বিভিন্ন দলের ভিন্নমতগুলো নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় নিয়ে সৃষ্ট মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক পরিবেশে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া হলরুমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘গণভোটের রায় মানতে হবে, এটা বিএনপি অস্বীকার করেনি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নও আমরা অস্বীকার করছি না। তবে এর মধ্যে কিছু নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে। শুধু বিএনপির নয়, আরও অনেক দলেরও আছে। সেগুলোর নিষ্পত্তি করা দরকার। গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রতিটি সমস্যার সমাধান সংসদে, আলোচনার টেবিলে হবে, লং মার্চ করে নয়।’
বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আপনারা বলছেন, সাত দফা দাবি মেনে নিতে হবে, না হলে এক দফায় ফিরে যাব। কাকে ভয় দেখাচ্ছেন? বিএনপি ১৭ বছর নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম করেছে। কত নিপীড়ন, অত্যাচার সহ্য করেছে, কত নেতাকর্মী হাত-পা হারিয়েছেন, পুলিশের শটগানের গুলিতে অনেকে অন্ধত্ব বরণ করেছেন। এত ত্যাগের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজকের অবস্থানে এসেছে। রাজপথ কি আপনাদের মৌরসি পাট্টা করে দেওয়া হয়েছে যে, আন্দোলনের মাঠ আপনাদের দখলে থাকবে আর আমরা ঘরে বসে থাকব?’
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে রিজভী বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে গণতন্ত্রায়নের জন্য জুলাই সনদে উল্লেখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সব রাজনৈতিক দল একত্র হয়ে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে পারে।
তিনি বলেন, একটি জাতির আত্মজীবনী হচ্ছে তার সংবিধান। সময়ের সঙ্গে জাতির বয়স বাড়ার পাশাপাশি সংবিধানেও সংশোধনী আসে। বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে একটি জাতির ইতিহাস সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকে। তবে সংস্কারের কথা বলে কী বোঝানো হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি।
অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আইনজীবীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, সে সময় আইনজীবীরা আদালতে রিমান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনেক সময় স্বস্তি পাওয়া যেত। তিনি বলেন, ‘বাইরে যখন অন্ধকার, কারফিউ এবং কালো আইনের প্রতাপ ছিল, তখন আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের কারণে কিছুটা আশ্রয় পেতাম। সেই ভূমিকা ভুলে যাওয়ার নয়।’
বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিচার প্রক্রিয়ায়ও ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছিল। আইনজীবীদের যুক্তি ও নথিপত্র উপেক্ষা করে তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। কারাগারে থাকাকালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিজভী।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং মন্দির ও গির্জার ধর্মীয় দায়িত্ব পালনকারীদের জন্য ভাতার উদ্যোগও এ সামাজিক সুরক্ষার অংশ।
রিজভীর অভিযোগ, এসব উদ্যোগ উপেক্ষা করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ও পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের আহ্বায়ক খোরশেদ মিয়া আলম। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুক। অনুষ্ঠানে সহস্রাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।