
টাঙ্গাইল জেলায় বর্তমানে অন্তত ১৫টি বিড়ি ফ্যাক্টরি সক্রিয় থাকলেও এসব কারখানায় উৎপাদিত বিড়ি সরকার নির্ধারিত মূল্য ও রাজস্ব কাঠামোকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বাজারজাত করা হচ্ছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রতিটি বিড়ির প্যাকেটের নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১৮ টাকা হলেও বাস্তবে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন হাট-বাজারে সেই বিড়ি ৯ টাকা ও ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরাসরি রাজস্ব ফাঁকির সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।
ব্যান্ড রোলের অঙ্কেই অনিয়মের গন্ধ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি প্যাকেট বিড়ির গায়ে ৯ টাকা ৬৪ পয়সা মূল্যের সরকারি ব্যান্ড রোল সংযুক্ত থাকার কথা। অথচ অনুসন্ধানে দেখা গেছে—যে বিড়ি বাজারে ৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেই বিড়ির গায়েই ৯ টাকা ৬৪ পয়সার ব্যান্ড রোল থাকার কথা। অর্থাৎ কাগজে-কলমে সরকার যেখানে রাজস্ব পাওয়ার কথা, বাস্তবে সেখানে রাজস্ব দেওয়া তো দূরের কথা—ব্যান্ড রোলই জাল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে একই ব্যান্ড রোল একাধিকবার ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন বাজার ও দোকান থেকে ব্যবহৃত ব্যান্ড রোল সংগ্রহ করে পুনরায় নতুন বিড়ির প্যাকেটে লাগিয়ে তা বাজারে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সরাসরি হাতছাড়া হচ্ছে।
অবৈধ কারখানা, কিন্তু বিক্রি চলছে রমরমা
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—টাঙ্গাইলে যে পরিমাণ বিড়ি বাজারে বিক্রি হচ্ছে, তার তুলনায় নিবন্ধিত ও বৈধ বিড়ি কারখানার সংখ্যা অপ্রতুল। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বেশিরভাগ বিড়ি বিক্রির পেছনে কোনো বৈধ কারখানার অস্তিত্বই নেই। গোপন স্থানে অবৈধভাবে উৎপাদিত বিড়ি জাল ব্যান্ড রোল লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে।
সীমান্ত পেরিয়ে জাল ব্যান্ড রোল
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, চোরাই পথে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ জাল ব্যান্ড রোল দেশে আনা হচ্ছে। এসব জাল ব্যান্ড রোল টাঙ্গাইলসহ আশপাশের জেলার বিড়ি কারখানায় ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি।
প্রশ্নের মুখে কাস্টমস, ভ্যাট ও এক্সাইজ
এতসব অনিয়মের পরও টাঙ্গাইল বিভাগীয় কাস্টমস, ভ্যাট ও এক্সাইজ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তৎপরতা চোখে পড়ছে না। অভিযোগ রয়েছে—প্রতিটি বিড়ি ফ্যাক্টরি থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাসিক ‘মাসোহারা’ গ্রহণ করেন, যার বিনিময়ে এসব অবৈধ কার্যক্রমে তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার: খামখেয়ালি ভূমিকা?
জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। নিয়মিত বাজার তদারকি ও অভিযান না থাকায় এই অনিয়ম দিনের পর দিন চলমান রয়েছে। জনস্বার্থে কার্যকর তদন্ত না হওয়ায় রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
জনস্বার্থে তদন্ত জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই বিষয়ে নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্ত পরিচালিত হয়, তাহলে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি, জালিয়াতি ও প্রশাসনিক যোগসাজশের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে, রাষ্ট্রের অর্থনীতি আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।
জনস্বার্থে দ্রুত তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
জনস্বার্থে সম্মিলিত সাংবাদিক জোট বিষয়টি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এর বরাবর অভিযান পরিচালনার জন্য একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে টাঙ্গাইল অফিস কে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেয়। কিন্তু তার অধীনস্থ ঢাকা বিভাগীয় কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র মহাপরিচালক এর চিঠির অভিযান পরিচালনা নির্দেশনা বাতিল করে দেয়। এই বিষয়ে উপ পরিচালক বিকাশ চন্দ্র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন মহাপরিচালক নির্দেশনা আমার শুনতে হবে এমন কোন আইন নেই। টাঙ্গাইলে বিড়ি ফ্যাক্টরি গুলো হচ্ছে মেসার্স মধু বিড়ি , মেসার্স ৫ নং বিড়ি, মেসার্স দেওয়ান বিড়ি মেসার্স মোহিনী বিড়ি,মেসার্স নিশাদ বিড়ি,সিয়াম বিড়ি,মেসার্স নিউ লাকী বিড়ি,মেসার্স নিউ মেরাজ বিড়ি,মন্টু বিড়ি, হক বিড়ি,মটর বিড়ি হালিম বিড়ি,নিউ মিঠু বিড়ি ,মেসার্স পাখা বিড়ি মেসার্স কেডি বিড়ি মেসার্স ঘমুনা বিড়ি মেসার্স ফুল বিড়ি ,লাকী বিড়ি,সহিদ বিড়ি ফ্যাক্টরি টাঙ্গাইল।