• ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকের সাথে জড়িতদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে -ভূমিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ২৬, ২০২৬, ২১:১৯ অপরাহ্ণ
মাদকের সাথে জড়িতদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে -ভূমিমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, মাদক কারবারের মাধ্যমে যারা হঠাৎ অঢেল সম্পদের মালিক হচ্ছে এবং বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ করছে, তারা মূলত জাতির শত্রু। এসব সমাজবিরোধীকে চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে বয়কট ও তাদের ঘৃণা করতে হবে।
আজ ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষ্যে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, মাদকের বিষাক্ত ছোবলে একটি সম্ভাবনাময় জাতির সম্পদের পাশাপাশি পরিবারের প্রত্যাশা এবং মেধাবী জীবনের দীর্ঘদিনের সাধনা মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায়। একটি পরিবার বহু প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সন্তানকে গড়ে তোলে, কিন্তু মাদকের নেশায় সেই সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। এর ফলে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, পুরো পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চীনের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একসময় দেশটির মানুষ আফিমের নেশায় ব্যাপকভাবে আসক্ত ছিল। কিন্তু দূরদর্শী নেতৃত্বের আহ্বানে তারা সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে আজ বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজকেও একইভাবে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। কারণ তারাই আগামী দিনে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে।
সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অন্যান্য দেশের মতো আরো কঠোর আইন প্রয়োগের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, রাজশাহীতে মাদকাসক্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক মাদক নিরাময় কেন্দ্র এবং শিশু হাসপাতালসহ অন্যান্য উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশের মাদক উৎপাদনকারী চক্রগুলো থেকে বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ করছে। এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরো কঠোর, সতর্ক ও তৎপর থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, আরএমপি কমিশনার ফয়েজুল কবীর, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোঃ এরশাদ আলী ঈশা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আলী আসলাম হোসেন এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুধীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ভূমিমন্ত্রী।