• ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের সাফল্য নিশ্চিত: রাষ্ট্রপতি

চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান | যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, ঋণ ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের সাফল্য নিশ্চিত: রাষ্ট্রপতি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দেশের বিশাল যুবশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের জনসংখ্যার সবচেয়ে বড় অংশ যুবসমাজ। এই জনমিতিক লভ্যাংশ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদ ও সম্ভাবনা।

আজ জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ আরও তিন বছর সময় পেয়েছে। এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে, যাতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ টিকে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে দেশের যুবসমাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তারাই ভবিষ্যতের প্রধান চালিকাশক্তি।

যুবসমাজকে কর্মমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু রাজনৈতিক বিপ্লব বা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, দেশকে একই সঙ্গে নির্মাণও করতে হয়। উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের প্রতিটি ক্ষেত্রে যুবকদের সম্পৃক্ত করতে হবে। দেশের উন্নয়ন এবং যুবসমাজের ভাগ্য পরিবর্তনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা রাখা যাবে না।

এ সময় যুব উন্নয়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ও বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।

তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বল্প পুঁজি নিয়ে দেশের তরুণ-তরুণীরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন এবং নিজেদের পণ্য উৎপাদন করছেন। দেশের বাজারের পাশাপাশি রপ্তানিতেও তাঁরা সাফল্য অর্জন করছেন। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রগতি তাঁকে মুগ্ধ করেছে। দেশীয় খাবার ও মিষ্টি উৎপাদন করে একজন নারী উদ্যোক্তার আয় এবং বিদেশে পণ্য রপ্তানির উদ্যোগকে তিনি উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে উল্লেখ করেন।

যুবকদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে আত্মনির্ভরশীল ও উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ-পরবর্তী ঋণ সহায়তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এতে বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সহযোগিতা ও প্রাথমিক মূলধনের ব্যবস্থা করা। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের যথাযথ সহায়তা দেওয়া গেলে তাঁরা নিজেরাই অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন।

যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে তরুণদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুবসমাজের মধ্যে মাদকের বিস্তার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ সমস্যা মোকাবিলায় সচেতনতা সৃষ্টি, প্রচারণা ও কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌতুক ও সামাজিক বৈষম্যসহ সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এসব সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণদের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি অঞ্চলে সংগঠন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে।

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বায়োগ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, বায়োগ্যাস প্রযুক্তি পুরোনো হলেও এটি অত্যন্ত কার্যকর ও উপযোগী। এর ব্যবহার বাড়ানো গেলে জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করা সম্ভব। এ ধরনের পরিবেশবান্ধব প্রকল্প সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।

জাতীয় যুব পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁদের অর্জন দেশের অন্যান্য তরুণ-তরুণীর জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপতি জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী জব ফেয়ার এবং দেশব্যাপী স্থাপিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্টগুলোর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর আগে তিনি জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে যুব পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান।

অনুষ্ঠানে যুব কার্যক্রমের ওপর নির্মিত ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এর আগে রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে বিভিন্ন স্টল ও যুবমেলা পরিদর্শন করেন।