• ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের দ্রুত ধরতে কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাসস
প্রকাশিত আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের দ্রুত ধরতে কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আজ ঢামেকে ডা. আসাদুর রহমানকে দেখতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: বাসস

সংবাদটি শেয়ার করুন....

চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের নির্মূল করা হবে।

সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে আজ ঢামেক হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

তারা চিকিৎসকদের কাছ থেকে ডা. আসাদুর রহমানের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কাজে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ অন্যান্য মেট্রো এলাকায়-যারা এরকম চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, তাদেরকে (আমি টাইম লিমিট দিচ্ছি না) অতিশীঘ্র যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে না নিতে পারে, আইনের আওতায় আনতে না পারে, তাহলে যারা ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগরে নিজ চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের হামলার শিকার হন তিনি এবং গুরুতর আহত হন।

মন্ত্রী জানান, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই চক্রের সাত সদস্যের মধ্যে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজনকে ঘটনাস্থল থেকে, একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে, একজনকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়া থেকে এবং অপরজনকে সাঁতারকুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চক্রটির মূল হোতা বিদেশে থাকাকালে হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে একটি অপরাধী চক্র গড়ে তোলে। বড় বড় হাসপাতাল, খ্যাতিমান চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য পেশাজীবীদের লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বার্তা পাঠানো এবং পরে শারীরিক হামলা চালিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করাই ছিল চক্রটির মূল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কেবল চাঁদাবাজ বা অপরাধীদের তালিকাই তৈরি করছি না। এসব চাঁদাবাজির সাথে যদি পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত থাকে বা সহায়তা করে, তবে তাদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, অপরাধী বা তাদের মদদদাতা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

চিকিৎসক ও বিভিন্ন পেশাজীবীর নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার বা ক্লিনিকে বিশেষ নিরাপত্তাঝুঁকি অনুভব করলে পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের যেকোনো নাগরিক বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শর্টগান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক নিজের নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন মনে করে আবেদন করলে সরকারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম এবং ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা।

পরে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হককে দেখতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...