• ২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১,৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১, ২০২৬, ২১:২৩ অপরাহ্ণ
১,৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ দুপুরে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে খোয়াইঘাট-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রকল্পটির ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনের পর তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এর আগে গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর উপলক্ষে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তিনি সড়কপথে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি ফেনীতে পৌঁছান। দিনের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পরে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করবেন তিনি। সেখানে ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।

বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করার কথা রয়েছে।

ফুলগাজীতে মোট ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড এবং পুরো ফেনী জেলায় ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাবেন। এছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী প্রদান করা হবে। ঢাকায় ফেরার আগে ওই স্থানে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন বলে কর্মসূচিতে জানানো হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এবং ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন এবং সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও পারিবারিক স্মৃতি জড়িত। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি এ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।