দক্ষিণখানে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, অভিযানে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করার আহ্বান
জনবল ও সিভিল টিম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার কথা পুলিশের
জাহেদী আরমান
প্রকাশিত অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে দক্ষিণখান থানা পুলিশ। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি জনবল বৃদ্ধি, সিভিল টিমের কার্যক্রম জোরদার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)।
ওসি সাহেবের বক্তব্য অনুযায়ী, মাদক উদ্ধার ও মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে মাদকের বিস্তার রোধে শুধু পুলিশি অভিযান যথেষ্ট নয়। প্রতিটি এলাকায় কার্যকর সিভিল টিম গঠন ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি এসব টিমের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। স্থানীয়দের সহযোগিতা ও তথ্যের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব।
দক্ষিণখান থানা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জনবসতি ও যোগাযোগকেন্দ্রগুলোর মধ্যে দক্ষিণখান মূল এলাকা, গাওয়াইর, আশকোনা, কাওলা, আজমপুর, মোল্লারটেক, ফায়দাবাদ, হলান ও চালাবনের নাম উল্লেখযোগ্য।
এসব এলাকার জনবহুল সড়ক, বাজার, আবাসিক পাড়া ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
এর আগে ২০২৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণখান এলাকায় পুলিশের এক অভিযানে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর বিদেশি অস্ত্র গুলিসহ ৪জন, ২৪ আগস্ট আজমপুর কাঁচাবাজার ও বিসমিল্লাহ পল্লী এলাকায় পৃথক অভিযানে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনা এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে ধারাবাহিক নজরদারির গুরুত্ব তুলে ধরে।
অফিসার ইনচার্জ আরো বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাড়ির মালিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের মাদকবিরোধী অভিযানে সহযোগীতা করতে হবে । সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা আইনসম্মত ও নিরাপদ উপায়ে পুলিশকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে গুজব, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে দেওয়া অভিযোগ কিংবা যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
দক্ষিণখান থানার অফিসার ইনচার্জ এর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এখন জনবল ও সিভিল টিমের কার্যক্রম কতটা সম্প্রসারিত হয় এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাদকবিরোধী উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।