• ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের সার্বিক সংস্কারে সহযোগিতার করতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২৫, ২০২৬, ২১:৪৮ অপরাহ্ণ
দেশের সার্বিক সংস্কারে সহযোগিতার করতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধনসহ চলমান সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে মঙ্গলবার সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স এ আগ্রহের কথা জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চায় তাঁর সংস্থা। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি মনোনীত হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে এ প্রক্রিয়ায় ইউএনডিপি প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে আগ্রহী।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আলোচনা হয়। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা, পাহাড় ধস প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শরণার্থীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করছে সংস্থাটি।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করতে চায় সরকার। তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায় না।

বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ইউএনডিপির সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন স্টিফেন রড্রিক্স। তিনি জানান, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে এ সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার, গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মোকাবিলা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া এসব অপতথ্য কার্যকরভাবে মোকাবিলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে ইউএনডিপি। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ইতোমধ্যে পাস হয়েছে। আইনটির সফল বাস্তবায়নে ইউএনডিপি লজিস্টিক সহায়তা দিতে পারে।

প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইনটি পাস হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আইনটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার, সংবাদপত্রের সম্পাদক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। দেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিকেও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

বাংলাদেশের সঠিক ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুলে ধরার বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সবসময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। বাংলাদেশ একটি উদার ও ধর্মীয়ভাবে সহনশীল দেশ উল্লেখ করে তিনি এ ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও ইউএনডিপি কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।