• ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয় মাসের যুদ্ধে হরমুজ প্রণালীতে ৬৮টি সামুদ্রিক হামলা, নিহত ২০

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১৫:১৯ অপরাহ্ণ
ছয় মাসের যুদ্ধে হরমুজ প্রণালীতে ৬৮টি সামুদ্রিক হামলা, নিহত ২০
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এ সময়ে উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও অন্যান্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনায় অন্তত ২০ জন নাবিক ও বন্দরকর্মী নিহত হয়েছেন।

লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) উপসাগর ও এর আশপাশের জলসীমায় মোট ৬৮টি ঘটনা নিশ্চিত করেছে। এসব ঘটনায় ২০ জন নিহত, ৩৫ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন।

আইএমওর তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার প্রায় অর্ধেকই ঘটেছে তেলবাহী ট্যাংকারে। প্রায় ২০ শতাংশ ঘটনায় কনটেইনারবাহী জাহাজ এবং ১৫ শতাংশ ঘটনায় বাল্ক ক্যারিয়ার জড়িত ছিল।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) ৬৮টি ঘটনার মধ্যে ৪৭টিকে হামলা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

পতাকাভিত্তিক হিসাবেও কয়েকটি দেশের জাহাজ তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ—১৩টি। এরপর পানামা ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ১০টি করে জাহাজে হামলা হয়েছে। ইরানের পতাকাবাহী জাহাজেও চারটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে হামলা ও অন্যান্য ঘটনার হারও পরিবর্তিত হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জুনের মাঝামাঝি শান্তি আলোচনা শুরুর কাঠামো নিয়ে একটি চুক্তি হওয়া পর্যন্ত গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৩ দিনে একটি করে ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ১৬ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হন।

এসব ঘটনা উপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালীর পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের পাশাপাশি ইরাক, ইরান, কাতার, সৌদি আরব, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলীয় এলাকাও রয়েছে।

শান্তি আলোচনা চলাকালে, প্রায় ৭ জুলাই পর্যন্ত, সামুদ্রিক ঘটনার হার প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। তখন গড়ে প্রতি ৪ দশমিক ৬ দিনে একটি ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে কোনো নাবিক বা অন্য কোনো কর্মী নিহত, আহত কিংবা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

তবে এ সময়ের পাঁচটি ঘটনার মধ্যে চারটিই হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের কাছে ওমানের উপকূলের আশপাশে ঘটেছে। ওই পথ ব্যবহারের অনুমতি ইরানি কর্তৃপক্ষ দেয়নি বলে জানানো হয়েছে।

যুদ্ধের পরও হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে জাহাজ চলাচলের জন্য ফি আদায়ের আশা করছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটি বিকল্প পথ ব্যবহার না করার জন্য জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছিল।

শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর আবারও সামুদ্রিক ঘটনার হার বেড়ে যায়। এ পর্যায়ে গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৮ দিনে একটি ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন নাবিক বা কর্মী নিহত, ১৬ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়ছে।