‘আদিবাসী’ শব্দের নতুন বয়ান তৈরির ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ১১, ২০২৬, ২১:৪১ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
কোনো ধরনের ‘পাতানো ফাঁদে’ পা দিয়ে ‘আদিবাসী’ শব্দের নতুন বয়ান তৈরি না করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো অভিবাসী রাষ্ট্রগুলোর বাস্তবতার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো মিল নেই।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে চিটাগাং হিল ট্র্যাকটস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য ‘আদিবাসী’ পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, অভিবাসী চিন্তাধারার মনোজগৎ বা ‘চশমা’ দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি কিংবা নৃবিজ্ঞানকে বোঝা সম্ভব নয়। ভৌগোলিক ও নৃতাত্ত্বিক বিচারে বাংলাদেশে ‘আদিবাসী’ শব্দ ও ধারণাটি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সিএইচটিআরএফের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক মো. মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. আবদুল্লাহ আল ইউসুফ।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যেসব দেশে বহিরাগত অভিবাসীরা এসে মূল অধিবাসীদের তাড়িয়ে রাষ্ট্র গঠন করেছে, সেখানে আদিবাসীদের একটি ঐতিহাসিক ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভের প্রতিকার ও পাপমোচনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কাজ করছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের বাস্তবতা নেই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো বহিরাগত অভিবাসী এসে মূল বাসিন্দাদের তাড়িয়ে জমি দখল করেনি। দেশের জনমিতি ও জাতিসত্তা হাজার বছরের নৃবৈজ্ঞানিক প্রাকৃতিক বিবর্তনের ধারায় গড়ে উঠেছে। ফলে এখানে ‘বহিরাগত অভিবাসী বনাম আদিবাসী’—এ ধরনের বিরোধের অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় পরিচয় ও জনমিতি নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিতর্ক সৃষ্টি না করার বিষয়ে সতর্ক করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বিতর্ক এক ধরনের অপকৌশল হতে পারে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নাগরিকত্বের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা উপস্থাপন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধারণা জাতির পরিচয়গত সংকট নিরসনে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পরিচয়ের এই সংহত অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখতে ভুল বয়ানের বিপরীতে সঠিক ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মনোজগৎ দিয়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সমস্যাগুলো সবসময় সঠিকভাবে বোঝা সম্ভব নয়। তাই এসব জনগোষ্ঠীর সমস্যা ও বাস্তবতা অনুধাবনে যথাযথ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।
গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, এমরান সালেহ প্রিন্স, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী মোহাম্মাদ রাশেদ খান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথি ও আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মারুফ কামাল খান সোহেল, ড. আবদুল হাই সিদ্দিকী, এম আবদুল্লাহ, আবু রুশদ, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল মাহফুজুর রহমান, লে. জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইতিহাসবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক।