বেনাপোল বন্দরে একদিনে ভ্রমণে ১৪ লাখ, বাণিজ্যে ১০ কোটি টাকার রাজস্ব
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১৬:১৫ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে একদিনে ভ্রমণ ও বাণিজ্য খাতে সরকারের আয় হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল ও আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্য মিলিয়ে এ রাজস্ব আদায় হয়।
বন্দর সূত্র জানায়, সোমবার বেনাপোল বন্দর দিয়ে ১ হাজার ৫১২ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেছেন। একই দিনে ৪২৩টি ট্রাকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে ৩২১ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ১০২ ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি করা হয়।
বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন মঙ্গলবার সকালে বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচলের তথ্য নিশ্চিত করেন।
আমদানি–রপ্তানির চিত্র
আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে ছিল শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, শিশুখাদ্য, মেশিনারিজ, ট্রাক চ্যাসিস, কমলা, আঙুর, আনার ও মাছ। অন্যদিকে রপ্তানি পণ্যের তালিকায় ছিল বসুন্ধরা টিস্যু, মেলামাইন, কেমিক্যাল, কাঁচা লোহা, মাছ ও ওয়ালটন পণ্য। তবে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেনাপোল স্থলপথে পাট, পাটজাত দ্রব্য, তৈরি পোশাক ও কাঠের আসবাবসহ কয়েকটি পণ্য রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। একইভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিষেধাজ্ঞায় সুতাসহ কিছু পণ্যের আমদানিও বন্ধ আছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বন্দর ও কাস্টমস সূত্র বলছে, দেশীয় শিল্প সুরক্ষার যুক্তিতে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পণ্যে শিথিলতা এসেছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে বাণিজ্যে গতি ফিরবে।
পরিবহন ব্যয়
সোমবার বেনাপোল থেকে আমদানিকৃত পণ্য পরিবহনে ট্রাকভাড়া ছিল—ঢাকা ২১–২২ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম ২৬–২৭ হাজার টাকা, খুলনা ১১–১২ হাজার টাকা এবং বরিশাল ১৭–১৮ হাজার টাকা। পচনশীল পণ্য ছাড়া অন্য পণ্য পরিবহনে ঢাকামুখী ভাড়ায় অতিরিক্ত ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ভ্রমণ খাতেও আয়
ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৬টা থেকে বেনাপোল–পেট্রাপোল রুটে যাত্রী চলাচল শুরু হয়। ১২ বছরের বেশি বয়সী যাত্রীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে ভ্রমণ কর ১ হাজার টাকা ও বন্দর কর ৬১ টাকা দিতে হয়। ৫ থেকে ১২ বছর বয়সীদের জন্য নির্ধারিত ফি ৫৬১ টাকা এবং ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু ৬১ টাকা বন্দর কর প্রযোজ্য। ক্যানসার রোগী, প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে ভ্রমণ কর কমিয়ে ৬১ টাকা নেওয়া হয়।
এ ছাড়া চলতি মাস থেকে ভারতের অংশে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি ও ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের ৪০০ রুপি এবং বিদেশিদের ৮০০ রুপি ভ্রমণ কর দিতে হচ্ছে।
মুদ্রাবাজার ও রেলপথ
স্থানীয় মানিচেঞ্জারদের তথ্যমতে, মঙ্গলবার বাংলাদেশি ১০০ টাকায় মিলেছে ৭৪ ভারতীয় রুপি এবং ১০০ রুপিতে পাওয়া গেছে ১৩৪ টাকা। মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১২৫ টাকা ও বিক্রয়মূল্য ১২৬ টাকা।
অন্যদিকে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, রেলপথে বর্তমানে কেবল এসিআই মোটরস ভারত থেকে ট্রাক্টর আমদানি করছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে অন্যান্য পণ্যের আমদানি এবং ঢাকা–বেনাপোল–কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে শিগগিরই রেল যোগাযোগ চালুর বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ শিথিল হলে বেনাপোল বন্দরে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমে আরও গতি আসবে এবং রাজস্ব আয়ও বাড়বে।