• ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৪শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ নয়, ডিজিটাল নিবন্ধন ও ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ নয়, ডিজিটাল নিবন্ধন ও ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে ডিজিটাল নিবন্ধন, কিউআর কোড ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার আওতায় এনে শৃঙ্খলায় ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সোমবার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধির আওতায় সরকারি দলের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অটোরিকশা ব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি অটোরিকশাকে ডিজিটাল নিবন্ধনের মাধ্যমে কিউআর কোড ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে, ফলে একটি নম্বরের অধীনে একাধিক অটোরিকশা অবৈধভাবে পরিচালনার সুযোগ থাকবে না। নীতিমালায় চালকদের কর্মসংস্থান, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিকর লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের ওপরও শর্ত আরোপ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে, যা মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। বিপরীতে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি; শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৪৮ হাজার অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসির যৌথ অভিযানে এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যানবাহনের কারণে সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১ জন নিহত হন, যার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ দুর্ঘটনার সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জড়িত ছিল বলে সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু অটোরিকশা নিষিদ্ধের পরিবর্তে নম্বর প্লেট, চালকদের প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় এনে নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দেন। তিনি প্রধান সড়কের পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচল, সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক চার্জিং অবকাঠামো, বিআরটিএ নিবন্ধন ও এলাকাভিত্তিক চলাচল ব্যবস্থা চালুরও দাবি জানান। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধে ডিএমপি নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি এআই ক্যামেরা থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে এবং তেজগাঁও ও রমনা বিভাগে আরও ২০০টি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীতে এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অটোরিকশা বন্ধ করা নয়; বরং জাতীয় স্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট মানুষের কর্মসংস্থান বিবেচনায় এসব যানকে একটি নিবন্ধিত, ডিজিটাল ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে আনা।