• ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ
র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে
সংবাদটি শেয়ার করুন....

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।

র‌্যাবের পরিবর্তে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব করে আজ জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিলটি উত্থাপনের সময় এর বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘র‌্যাব নামে কোনো সংস্থা থাকবে না’—এটি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা বজায় রেখে ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এসআরবি বিল আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কারণে পুরো পুলিশ বাহিনী বিলুপ্ত করার কোনো কারণ হতে পারে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত এসআরবিতে র‌্যাবের তুলনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী বিধান রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতাদের সংসদীয় কমিটিতে বিলটির যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে নিজেদের সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিলে র‌্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক আমানত, দায়-দেনা, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং রেজিস্টার ও নথিপত্র এসআরবির কাছে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, এসআরবি পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সরকারি প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য, অন্যান্য বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদায়ন বা প্রেষণের মাধ্যমে এই ইউনিটে নিয়োগ দেওয়া হবে।

বিধি অনুযায়ী এসআরবির জন্য নির্ধারিত পতাকা, প্রতীক ও ইউনিফর্ম থাকবে। ইউনিটটির মহাপরিচালক হিসেবে একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তাঁর পদমর্যাদা ‘অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক’-এর নিচে হবে না।

প্রস্তাবিত এসআরবির ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের পাশাপাশি তল্লাশি, গ্রেপ্তার এবং মালামাল বা আলামত জব্দের ক্ষমতা থাকবে। এসব মালামাল সংরক্ষণের জন্য ইউনিটটির নিজস্ব মালখানা বা সংরক্ষণব্যবস্থাও থাকবে।

নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একাধিক সদস্য নিয়ে একটি ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে বিলে।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধসহ অন্যান্য গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সাড়া দিতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য নতুন এই ইউনিট প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত আইনে এসআরবির ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা, কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পরে বিলটি যাচাই-বাছাই করে চার কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ও সংসদে উত্থাপন করেন। বিদ্যমান অধ্যাদেশ বাতিল করে এপিবিএনের জন্য নতুন আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠাই এই বিলের লক্ষ্য।

প্রস্তাবিত আইনে পুলিশের অধীনে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটের বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, হিল ব্যাটালিয়ন ও এয়ারপোর্ট ব্যাটালিয়নসহ সরকার নির্ধারিত অন্যান্য ব্যাটালিয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিল অনুযায়ী, এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফৌজদারি কার্যবিধি ও অন্যান্য প্রচলিত আইনের অধীন থেকে কোনো প্রাঙ্গণে প্রবেশ, তল্লাশি, সম্পত্তি জব্দ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও তাদের থাকবে।

এপিবিএন সদস্যদের জন্য শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিরও প্রস্তাব করা হয়েছে। সাধারণভাবে কোনো সংগঠনের সদস্য হওয়া বা কোনো সংগঠনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকা তাদের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে। তবে পেশাগত উন্নয়ন অথবা এপিবিএনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অনুমতির সুযোগ থাকবে।

এ ছাড়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া ইলেকট্রনিক মাধ্যম বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য কিংবা নথি প্রকাশ করা বা প্রকাশে সহায়তা করা থেকে এপিবিএন সদস্যদের বিরত থাকতে হবে।

যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এ বিলটিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।