• ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভয়ভীতি, অপমান ও হয়রানির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে করদাতাদের সম্মান দেওয়ার আহ্বান

“Respect Citizen Card” চালুর প্রস্তাব; স্বতঃস্ফূর্ত কর সংস্কৃতি গড়ে তোলার তাগিদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ২২, ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ
ভয়ভীতি, অপমান ও হয়রানির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে করদাতাদের সম্মান দেওয়ার আহ্বান
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো করদাতারা। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় নিয়মিত কর প্রদানকারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তারা প্রাপ্য সম্মান ও নাগরিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হন। ফলে সমাজে কর প্রদানের প্রতি ইতিবাচক আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় গড়ে উঠছে না।

এ অবস্থায় ভয়ভীতি, অপমান, অপবাদ ও হয়রানিনির্ভর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে করদাতাদের মর্যাদা ও সম্মান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, করদাতাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও বিশেষ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশে স্বতঃস্ফূর্ত কর প্রদানের সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে এবং কর ফাঁকির প্রবণতাও কমে আসবে।

এ লক্ষ্যে “Respect Citizen Card” বা “Priority Pass” চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কর প্রদানের পরিমাণ, ধারাবাহিকতা ও সততার ভিত্তিতে করদাতাদের সিলভার, গোল্ড, প্লাটিনাম ও ডায়মন্ড—এই চারটি গ্রেডে বিভক্ত করা যেতে পারে। প্রতিটি গ্রেডের করদাতার জন্য নির্ধারিত থাকবে বিশেষ নাগরিক সুবিধা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

প্রস্তাবিত সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাসপোর্ট, ইমিগ্রেশন, বিআরটিএ ও সরকারি হাসপাতালে Priority Service, বিমানবন্দরে Fast Track ও Lounge সুবিধা, ব্যাংকিং ও লোন প্রসেসিংয়ে অগ্রাধিকার, ট্রেন ও বিমান টিকিটে বিশেষ সুবিধা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সামাজিক স্বীকৃতি।

উদ্যোক্তাদের মতে, এ ধরনের সুবিধা শুধু বড় করদাতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বরং নিয়মিত চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নারী উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার, তরুণ করদাতা এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদেরও এই ব্যবস্থার আওতায় আনা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করদাতাদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে মানুষ ট্যাক্সকে আর বোঝা হিসেবে দেখবে না; বরং দেশের উন্নয়নে নিজের মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে “সম্মানিত করদাতা” হওয়ার ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও রাজস্ব খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।