দেশে দীর্ঘদিনের মামলার জট কমিয়ে বিচারপ্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কার্যকর করতে সরকার স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার সংসদে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিন-এর উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও গতিশীল করতে চলতি অধিবেশনেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রক্রিয়াগত আইন সংশোধন করা হয়েছে।
দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর আওতায় এখন এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারি, হলফনামার মাধ্যমে লিখিত জবাব দাখিল, সরাসরি জেরা গ্রহণ এবং একই মামলার মধ্যেই ডিক্রি বাস্তবায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে আলাদা এক্সিকিউশন মামলা করার প্রয়োজন থাকবে না।
অন্যদিকে ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এ অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমাতে বিভিন্ন ধাপ সহজ করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পলাতক আসামির বিরুদ্ধে কিছু প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০২০ অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের সাক্ষ্য এখন অনলাইনে গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে সাক্ষীদের শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
এছাড়া ১৬টি জেলায় ই-বেইল বন্ড চালু, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ই-ফ্যামিলি কোর্ট কার্যক্রম এবং অনলাইনে কজলিস্ট প্রকাশের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিচারকদের ওপর চাপ কমাতে পৃথক বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ৮৭১টি আদালত ও ২৩২টি বিচারক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আরও ৩০৪টি বিচারক পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া ১৫০ জন সহকারী জজ ও এক হাজার ২০০-এর বেশি বিচারিক কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
আইনগত সহায়তা সেবা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা (মেডিয়েশন) চালু করা হয়েছে, যা পরীক্ষামূলক জেলাগুলোতে মামলার সংখ্যা কমাতে সহায়ক হয়েছে।
বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা সম্প্রসারণে হটলাইন (১৬৬৯৯), অনলাইন সেবা এবং প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সহায়তা চালু করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২৩টি জেলায় প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং অন্যান্য জেলাতেও অবকাঠামো উন্নয়ন চলছে।
সব জেলা জজ ও প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যাতে বিচারপ্রার্থীরা সহজে সেবা পেতে পারেন।
ডিজিটাল বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন এবং পূর্ণাঙ্গ ‘ই-জুডিশিয়ারি’ ব্যবস্থা চালুর কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি আইনজীবীদের মানোন্নয়নে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসব সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ধীরে ধীরে মামলার জট কমবে এবং নাগরিকরা দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যয় সাশ্রয়ী বিচারসেবা পাবেন।