• ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে- ভূমিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১৯, ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে- ভূমিমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

বর্তমান সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ধাপে ধাপে আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।ভূমিসেবা মেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু একথা বলেন।তিনি বলেন- আপনারা সাংবাদিকরা জাতির বিবেক;আপনারা আমাদেরকে সচেতন করবেন।আমরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে দেশ সেবা করতে চাই।আগে অনেকে নিজেদেরকে দেশের মালিক ভাবতেন।শুধু আমি আর আমার কথা বলতেন।আমি বলতে চাই -আমারা এবং আমাদের দেশ।
তিনি বলেন-এ মন্ত্রণালয়ে নিয়ে মানুষের অনেক প্রত্যাশা। আমরা জানি এই পথ অনেক কঠিন;আমরা চেষ্টা করছি মানুষের সেবক হতে।আমরা যারা রাজনীতি করি আমাদের অনেক সময় ভুল হতে পারে।আপনারা আমাদেরকে সচেতন করবেন।
প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন-আমরা চেষ্টা করছি ভূমি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত এবং হয়রানি ছাড়া সেবা প্রদানের আমাদের যে প্রচেষ্টা এটাকে দৃশ্যমান করতে।আমারা জনগণকে যে সেবাগুলো প্রদান করছি অনেকে এটার ব্যাপারে সচেতন না;আমাদের চেষ্টা হচ্ছে এই ব্যাপারে তাদেরকে সচেতন করা।হয়রানি এবং দুর্নীতিরোধে আমরা স্বয়ংক্রিয় যে সেবাগুলো দিচ্ছি তা এখনো প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের কাছে ঠিকমতো পৌছায় নাই।সিটি পর্যায়ে ও হয়তো অনেকে জানেনা।সেটা জানানোর জন্যই সারা দেশব্যাপী আমাদের এমেলার আয়োজন। তিনি আরও বলেন–মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বলেছেন বাংলাদেশ এর জনগণ ই হচ্ছে এদেশের মালিক।আমাদের মন্ত্রণালয় ও এর ব্যতিক্রম নয়।আমাদের কাছে যারা সেবা নিতে আসেন তারা যেন আমাদের কর্মকাণ্ডে ভাবেন তারা এদেশের মালিক।

সভাপতির বক্তৃতায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন-
ভূমি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, অনলাইনে খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ প্রাপ্তি, ডাকযোগে ভূমিসেবা, ডিসিআর ফি প্রদানসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা জনগণের নিকট সহজলভ্য করেছে।ফলে নাগরিকগণ ঘরে বসেই নির্ধারিত ‘ফি’ প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাশিত সেবা গ্রহণ করতে পারছে। ভূমি সংক্রান্ত সকল সেবা অটোমেটেড করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভূমিসেবা মেলা আয়োজনের মাধ্যমে নাগরিকগণ হয়রানিমুক্তভাবে ভূমিসেবা গ্রহণসহ এসব অটোমেটেড ভূমিসেবা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবে। ফলে জনগণ সেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হবে যা ভূমি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে প্রতিটি উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে ভূমি ভবন ঢাকায় আগামী ১৯ থেকে ২১ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী “ভূমিসেবা মেলা ২০২৬” আয়োজন করা হচ্ছে। জনগণের দোরগোড়ায় সহজ, স্বচ্ছ ও অটোমেটেড ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং ভূমিসেবা বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।এ বছরের ভূমিসেবা মেলার প্রতিপাদ্য বিষয়ঃ“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনাঃসুরক্ষিত ভূমি,সমৃদ্ধ ভবিষ্যত”
ভূমিসেবা মেলার উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে অটোমেটেড ভূমিসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা,ভূমি অফিসে না যেয়ে ঘরে বসে নাগরিকদের ভূমিসেবা প্রাপ্তির বিষয়ে ধারনা প্রদান, মেলায় সরাসরি ভূমিসেবা প্রদান, অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেম ব্যবহারে নাগরিকদের উৎসাহিত করা, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানে নাগরিকদের উৎসাহিত করা, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করা, ভূমিসেবা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থা করা এবং সর্বোপরি ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
ভূমিসেবা মেলা প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা, রাজস্ব সার্কেল ও জাতীয় পর্যায়ে ঢাকার তেজগাওস্থ ভূমি ভবনে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ মে ২০২৬ তারিখ সকাল ১০:৩০ টায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এমপি মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করার সানুগ্রহ সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। জাতীয়ভাবে ভূমি ভবনে ভূমি মন্ত্রণালয় ও এর দপ্তর/সংস্থার পক্ষ থেকে ভূমিসেবা প্রদান ও অটোমেটেড ভূমিসেবা বিষয়ে ধারনা প্রদানের লক্ষ্যে ০৫ টি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা ও ঢাকা মহানগরের সার্কেল অফিসসমূহ কর্তৃক ১৫ (পনেরো) টি এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ২০(বিশ)টি ভূমিসেবা স্টল থাকবে। মেলায় ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত স্টল ছাড়াও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের অফিস, ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র (LSFC), বিভিন্ন ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্টল থাকবে।
মেলায় ভূমিসেবা বিষয়ক অডিও-ভিডিও কনটেন্ট প্রদর্শন, কুইজ প্রতিযোগিতা, জনসচেতনতামূলক সেমিনার, ভূমি আড্ডা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হবে। সাধারণ জনগণের মধ্যে “ভূমি আমার ঠিকানা” শীর্ষক বুকলেট, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হবে।
ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষ্যে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভূমিসেবা মেলার বিষয়ে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রচার মাধ্যম হিসাবে টেলিভিশন, বেতার, মেট্রোরেল, মাইকিং, ব্যানার-ফেস্টুন,ধর্মীয় উপাসনালয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় কেবল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। ভ্রাম্যমান ভূমিসেবা ভ্যানের মাধ্যমে সেবা প্রদানসহ ভূমিসেবা সম্পর্কে জনগণকে অবহিতকরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে ।
ভূমি মন্ত্রণালয় আশা করে, “ভূমিসেবা মেলা ২০২৬” অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনার রূপান্তরকে আরও গতিশীল করবে এবং জনগণের মাঝে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর, হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা সম্পর্কে আস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ব্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।