এইচএসসিতে পাসের হার কমে ৫২.১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ কমেছে ২৯ হাজার
১১ বোর্ডে পাস ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন; ছাত্রদের চেয়ে ৬৬ হাজার বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ, শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে ২৯৩
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ১, ২০২৬, ০০:১৬ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
শনিবার সকাল ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। অর্থাৎ, ছাত্রদের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছে।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফল
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ জন। পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন।
এ বোর্ডগুলোতেও ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীদের পাসের সংখ্যা বেশি। উত্তীর্ণ ছাত্র ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ১৩ হাজার ৪৬০ জন। অর্থাৎ, ছাত্রী বেশি পাস করেছে ৮৫ হাজার ৬৭১ জন।
প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রের চিত্র
এ বছর সারা দেশে পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ২ হাজার ৭৬০টি এবং পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৩৯০টি। গত বছরের তুলনায় প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৮৮টি, অন্যদিকে পরীক্ষাকেন্দ্র কমেছে ৪০টি।
ফলাফলে দেখা গেছে, শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩৯টি। বিপরীতে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি—এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৯৩টি, যা গত বছরের তুলনায় ৯১টি বেশি।
সামগ্রিক ফলাফলের এই চিত্রে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমার পাশাপাশি শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি দেশের মাধ্যমিক-পরবর্তী শিক্ষার মান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন সামনে এনেছে।