হজযাত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের ১০ কোটি টাকার বেশি ফেরত আনল সরকার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ২, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত এনেছে সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেইন কায়কোবাদ।
রোববার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ৩১০ জনের বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জনের বিপরীতে এক লাখ ১৫ হাজার ৯২ রিয়াল রাখা হয়।
বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস জেদ্দা সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে। তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন এবং আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ধর্মমন্ত্রী জানান, গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার ‘নুসুক’ ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগের হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ ফেরত পাওয়ার নজির ছিল না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য ও যুক্তি তুলে ধরা, বাংলাদেশ হজ অফিস জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক সমন্বয়ের ফলে এ অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
এ সাফল্যের জন্য সৌদি সরকার, বিশেষ করে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের হজযাত্রীদের কল্যাণে সৌদি সরকারের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার নাগরিকদের অধিকার ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে। হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সেবামুখী করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে হজযাত্রীদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা তাঁদের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
হজযাত্রীদের ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া ২০২৬ সালের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে হজের বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনায় বিমানভাড়াসহ ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের সামগ্রিক ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো হজযাত্রীদের হয়রানি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, সেবার মান বাড়ানো এবং তাঁদের অর্থের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি অঙ্গীকার করেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের কোনো হজযাত্রীর আর্থিক স্বার্থ ও ন্যায্য অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও জনবান্ধব, সাশ্রয়ী ও সুশৃঙ্খল করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।