আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা, দেশে চালু হলো গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার
৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত কেন্দ্র; আম-কাঁঠালসহ কৃষিপণ্যের সংরক্ষণক্ষমতা বাড়ানো ও জীবাণুমুক্তকরণে মিলবে প্রযুক্তিগত সুবিধা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ১, ২০২৬, ০০:২১ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
কৃষিপণ্যের সংরক্ষণক্ষমতা বৃদ্ধি, জীবাণুমুক্তকরণ এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে দেশে চালু হলো গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার। ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এ কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের গুণগত মান ও সংরক্ষণকাল বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
শনিবার গাজীপুরের ভবানীপুরে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) আঞ্চলিক গবেষণা স্টেশনে নবনির্মিত গামা ইরেডিয়েশন সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কৃষিপণ্যকে অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার কাজ করছে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আমের গুণগত মান ভালো। গামা ইরেডিয়েশন প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব আমের সংরক্ষণক্ষমতা বাড়ানো ও জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির পরিমাণ বাড়বে।
তিনি জানান, সম্প্রতি চীন থেকে আসা একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের আম আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁঠালেরও ব্যাপক চাহিদা ও খাদ্যগুণ রয়েছে। তবে এসব পণ্য রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষিপণ্যের পচন ও অপচয় রোধ এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সুরক্ষায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যয় কিছুটা বেশি হলেও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং দক্ষ কারিগরি জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘কৃষির অর্থনীতি শক্তিশালী হলেই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার কৃষি খাতকে সহযোগিতা করবে।’
বিনার মহাপরিচালক ড. সারফুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি ডা. জিয়াওকুন শি বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, কৃষিপণ্য পরিশোধনের উদ্দেশ্যে পরমাণু প্রযুক্তিনির্ভর এ গামা ইরেডিয়েশন সেন্টারটি ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছে।